ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স আগে নিল অগির আগামী বছর বাজারে আসার পরিকল্পনা

WiMax

ইত্তেফাক: স্বল্পতম সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের দ্রুত গতির ডেটা ট্রান্সফারিং, গুণগত মানের ভিডিও কনফারেন্সিং, হাইব্রিড আইপি টেলিফোনী সুবিধা দিতে সবার আগে ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স নিয়েছে অগির ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড। রবিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে এ লাইসেন্স বুঝে নেয় অগির। ১৫ বছরের জন্য এ লাইসেন্স পেল অগির।

বিটিআরসি নির্দেশিত ১৬ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স ফি’র অর্ধেক টাকা (১০৭ কোটি ৫০ লাখ) পরিশোধ করে লাইসেন্স পেল ফ্রান্স টেলিকমের অগির হোল্ডিংস, টেলিপোর্ট বাংলাদেশ এবং আমরা নেটওয়ার্কসের যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অগির ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড। লাইসেন্সের জন্য মনোনীত অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর কেউই এখনো লাইসেন্স ফি পরিশোধ করেনি। সে কারণে তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি বিলম্বিত হচ্ছে। আগে লাইসেন্স নেয়ায় অন্যদের চেয়েআগে অপারেশনে আসবে বলেও জানিয়েছেন কোম্পানিটির স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গতকাল সকালে বিটিআরসির নতুন কার্যালয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঞ্জুরুল আলম অগির প্রতিনিধি এন এইচ চৌধুরী ও সৈয়দ ফরহাদ আহমেদের কাছে এ লাইসেন্স তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ দেলওয়ার, কমিশনার মুনির আহমেদসহ বিটিআরসি এবং অগিরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ব্রডব্যান্ড ওয়ারলেস এক্সেসের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে দেশের টেলিকম সেক্টরে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হবে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কমমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবে।

অগির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখনো তারা এ বিষয়ে সমন্বিত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। তবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন খরচে ব্রডব্যান্ড সুবিধা দেয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা রাসেল টি আহমেদ। ইত্তেফাককে তিনি জানান, দেশের গ্রাহকদের আর্থিক সামর্থ্যরে দিকটি মাথায় রেখে বিভিন্ন সেবা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ই-মেইল চেক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে কাজ করবেন তারা। সঙ্গে থাকছে স্বল্প পরিসরের গুণগত মানের ভিডিও কনফারেন্সিং এবং হাইব্রিড আইপি টেলিফোনী সুবিধা।

অগির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী বছরের প্রথম দিকে বাজারে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স প্রদানের জন্য রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশি-বিদেশি ৯টি কোম্পানি অংশ নেয়। সর্বোচ্চ ২১৫ কোটি টাকা ডেকে নিলাম জিতে তিন কোম্পানি। অন্য দুইটি কোম্পানি হচ্ছে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এবং ব্র্যাক বিডি মেইল নেটওয়ার্ক লিমিটেড। তবে সম্প্রতি এ দুইটি কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্স ফি’র অর্ধেক টাকা জমা দেয়ার সময় ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ দুইটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে সঙ্গে সরকার পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিঃ (বিটিসিএল)ও ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স পাবে।

Your rating: None