গ্রামীণ ফোনের প্রতারণার কাহিনী...

গ্রামীণ ফোনের প্রতারণা ও শোষনের কাহিনী সাংবাদিকদের কাছে শোনালেন দেশের কয়েকজন তরুণ উদ্যক্তা। তারা আরও জানালেন এ ধরনের বৃহৎ বিদেশী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কিভাবে দেশী ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে ধংস করে দেয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কমিউনিক পার্ক লি. নামে এক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোনের প্রতারণা নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানালেন।

কমিউনিক পার্কের চেয়ারম্যান আনিস ফারুখ লিখিত বক্তেব্যে বলেন, গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে এক লিখিত চুক্তি মোতাবেক ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর আমরা তাদের পরিবেশক নিয়োগ প্রাপ্ত হই। তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ ছিল ১৪ মাসের। আমরা অল্প দিনের মধ্যে আমাদের কাজের দক্ষতার মাধ্যমে দেশের একনম্বর ডিলারে পরিনত হই। মাত্র সাত মাসে আমরা এক লক্ষ সাতানব্বই হাজার আটশ একাশিটি গ্রামীণ ফোনের সংযোগ বিক্রি করি। চুক্তি মোতাবেক ৫ শতাংশ কমিশনে আমরা সর্বমোট তেইশ কোটি আঠারো লক্ষ তিরাশি হাজার একশ সত্তর টাকা পাওনা হই। এরমধ্যে হঠাৎ করে গ্রামীণ কর্তৃপক্ষ ৭মাসের মাথায় তাদের পলিসি পরিবর্তন করে আমাদের সঙ্গে সংযোগ দেয়া বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন,‘আমরা আমাদের পাওনা আদায়ের জন্য তাদের পিছনে ঘুরতে থাকি। অনুরোধ করতে থাকি। তারা আমাদের মোট পাওনার মধ্যে সাত কোটি ছাপ্পান্ন লাখ সাতাশ হাজার ছয় টাকা দিয়ে বাকী টাকা না দিতে অস্বীকার করে। আমরা তরুণ উদ্যাক্তারা আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন ব্যাংকে নিজেদের বাবা-মার সম্পত্তি বন্ধক রেখে এই ব্যবসায় বিনিয়ক করেছিলাম। কিন্তু গ্রামীণের চক্রান্তের কারণে আমরা আত্মীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি, হয়েছি ব্যাংকে ১২ কোটি টাকার ওপর ঋন খেলাপি। ব্যাংকগুলো আমাদের পৌত্রিক বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ার জন্য বারবার নোটিশ জারি করছে।

তিনি আরও বলেন, আইনী প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদী ও খরচে হওয়ার কারণে আমরা এখানে যেতে না চাইলেও অপারগ হয়ে অবশেষে তার কাছেই আমাদের যেতে হয়েছে। আমাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদুল হক, এডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরীর আন্তরিক চেষ্টায় বিচারপতি সৈয়দ আমিরূল ইসলাম চৌধুরীর আরব্রিট্রেশন আদালতে গ্রামীণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দীর্ঘদিন পর গত ৩১/১২/২০০৮ তারিখে ২৪ কোটি ২১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯২০ টাকার ডিক্রি লাভ করি। আরবিট্রেশন অনুযায়ী গ্রামীন রায়ের ৬০ দিনের মধ্যে এই টাকা প্রদান করতে বাধ্য।

এডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, রায়ের পর তারা এখনও কোন প্রতিক্রিয়া জানায় নি। তারা কোর্টের আদেশে টাকা দিবে না কোর্টে যাবে। আরও কয়েকদিন সময় এখনও আছে। আমরা শেষদিন পর্যন্ত দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেব বলে তিনি জানান।

চুক্তিভঙ্গের সময়ও গ্রামীণ কমিউনিক পার্কের নামে কোন ধরণের চিঠি বা নোটিশ দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি বলে জানান আইনজীবী আহসানুল করিম।

অন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার খায়রুল ্আলম চৌধুরী বলেন, আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশ বাসীকে জানানো যে, উন্নয়নের কথা বলে বিদেশী বিনিয়ককারীদের আমরা যে তোষামোদ করে থাকি আসলে তাদের দ্বারা আমাদের মত গরীব দেশের কোন উন্নতি বা উপকার হয় কিনা। তিনি বলেন, গ্রামীন ফোনের নামই শুধু দেশী। এর প্রায় সবকিছু বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণে। সকল টাকা তারা নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও অসহায়। তারা যা ইচ্ছে করে তাই আইন। তিনি উল্লেখ করেন, কমিউনিক পার্কের বিষয়ে বিটিআরসির কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল পাওনা টাকা দিয়ে দিতে। কিন্তু গ্রামীণ তাতে কর্ণপাত করেনি।

তিনি আরও বলেন, আজ সময় এসেছে এই সব ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। পাঁচশ বছর আগের আইন পরিবর্তনের।

সাংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিউল আজম, কোম্পানী সেক্রেটারী নাহিদ সারোয়ার।

Comments

kabir0202's picture

সময় এসেছে সব ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার।

আজ সময় এসেছে এই সব ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। পাঁচশ বছর আগের আইন পরিবর্তনের।