যুদ্ধাপরাধীর বিচার না করে টিপাইমুখ বাধ ঠেকান- সরকারের প্রতি নিজামী
(প্রথম আলো ১১জুলাই)
খবরটা পড়ে আর না লিখে পারলাম না। মালানা নিজামী নিজে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী তিনি নিজেকে এবং তার অনুমারীদের বাচানোর জন্য কথাটি বলেছেন বলে আমার ধারনা। তিনি আরো বলেছেন যে সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে খুশি করতে নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে কিন্তু কেন? বাংলাদেশের ১৫ কোটি জনগন কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না? নিজামী সাহেব আরো বলেছেন যে বঙ্গবন্ধু নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে গেছেন তাহলে কেন পুনরায় বিচারের দাবি উঠবে আর যদি সত্যিই তিনি বিচার করে থাকেন তাহলে তার কোন প্রমান বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে না? নাকি শুধু গা বাচানোর জন্যই নিজামী সাহেব এই বক্তব্য দিয়েছেন? আবার তিনি আরো বলেছেন ৩৮ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে সরকারকে নাকি মিথ্যা সাক্ষি সাজাতে হবে কিন্তু কেন? আমরা যারা স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্ম তারা আজো স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারিনি কিন্তু যাদের সাহসী ভূমিকায় আমাদের এই দেশ স্বাথীন হল তারা কি চুপ করে থাকবেন? যাদের রাজাকারেরা সাধারন মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে তারা আর যাই করুক মিথ্যা সাক্ষি দিয়ে আমাদে এই পবিত্র জন্মভূমি কে অপবিত্র করতে পারবে না যদি পারে তাহলে কেন ৯ মাস যুদ্ধ করে আমাদের স্বাধীন দেশ উপহার দিল আমরা তো কোন দোষ করিনি তবে কেন আমাদের এই কলং্কিত ইতিহাসের সাক্ষী হব? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে এখন রাজনীতি চলছে যারা এখন ক্শতায় তারা তাদের বিরোধীদের দোষী বানাবেন আর তারা যদি সত্যিই দোষী হয় তাহলেও হয়তো কেউ কেউ তাদের নির্দোষ বানানোর জন্য উঠে পড়ে লাগবে। কিন্তু সিত্যকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আদৌ হবে কিনা তা এখনই সংশয় দেখা দিয়েছে। টিপাইমুখ বাধ এখন আমাদের একটি জাতীয় সমস্যা তা নিয়ে কান সন্দেহর অবকাশ নাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং টিপাইমুখ বাধ সম্পূর্ন দুটি ভিন্ন বিষয় নিজামী সাহেব তার বক্তব্যে দুইট বিষয়কে একীভু করে ফেলেছেন কিন্তু কেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে তার কি ক্ষতি হবে? তিনি তো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তার এত ভয় কেন?
টিপাইমুখ প্রকল্প যাতে শুরু না দেখবে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করবে বিচার বিভা এবং তাতে সহায়তা করবে আইন মন্ত্রনালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিসয়ক মন্ত্রনালয় এবং দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে কিন্তু নিজামী সাহেব কি ভাবে বললেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে টিপাইমুখ প্রকল্প ঠেকাতে হবে?
