রাজধানীর একটি মোবাইলের দোকানে বিকাশ অ্যাপের ব্যানার। ছবি: প্রিয়.কম

বিকাশ অ্যাপে চার্জ বাড়ানো ‘একদম সিম্পল’

সেবা চালুর চার মাস পর যৌক্তিক কোনো কারণ না দেখিয়ে অ্যাপে ক্যাশ আউটের চার্জ ১.৭৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বিকাশ।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৮ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৮
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৮ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৮


রাজধানীর একটি মোবাইলের দোকানে বিকাশ অ্যাপের ব্যানার। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশ চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসে। সেই অ্যাপ উন্মোচনের পর জানানো হয়, এর মাধ্যমে অপর বিকাশ অ্যাকাউন্টে সেন্ড মানিতে হবে না কোনো খরচ। আর ক্যাশ আউটে প্রতি হাজারে গ্রাহককে গুণতে হবে ১৫ টাকা করে। এ বিষয়ে টেলিভিশন ও অনলাইনে বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হয়। সেগুলোতে ১৫ টাকার বেশি চার্জ বা শর্ত প্রযোজ্য থাকার কথা জানানো হয়নি। অথচ সেবা চালুর চার মাস পর যৌক্তিক কোনো কারণ না দেখিয়ে অ্যাপে ক্যাশ আউটের চার্জ ১.৭৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বিকাশ। বিষয়টি যেন তাদের স্লোগানের মতো ‘একদম সিম্পল’।

৫ সেপ্টেম্বর, বুধবার ক্যাশ আউটে চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিকাশ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সকল বিকাশ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ ১.৭৫%। অ্যাপ দিয়ে কম খরচে ক্যাশ আউট করুন।’

বিজ্ঞপ্তিতে চার্জ বাড়ানোর কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও অ্যাপ দিয়ে কম খরচে ক্যাশ আউটের কথা বলা হয়েছে।

মুঠোফোনে ব্যবহারকারীদের একই ধরনের বার্তা দেয় বিকাশ। অথচ এর আগে ক্যাশ আউট চার্জ বাড়তে পারে, এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিকাশ ব্যবহার করে আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডাটা (ইউএসএসডির) চ্যানেলে সেন্ড মানিতে খরচ পড়ে ৫ টাকা। আর ক্যাশআউটে পড়ে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। অ্যাপ আসার পর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের কিছুটা হলেও সাশ্রয় হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে নির্ধারিত চার্জের পর অ্যাপে ক্যাশ আউটে হাজারে দিতে হবে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে ইউএসএসডির ব্যবধান মাত্র ১ টাকা।

গ্রাহকদের ক্ষোভ

বিকাশ অ্যাপে ক্যাশ আউটে চার্জ বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা। ৫ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১০ ও ১৩ নম্বরের কয়েকটি বিকাশ এজেন্ট পয়েন্টে টাকা তুলতে আসা ব্যবহারকারীরা এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই ব্যবহারকারীদের একজন কাইয়ুম হোসেন। তিনি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী।

কাইয়ুম জানান, অ্যাপ আসার পর এর মাধ্যমে ক্যাশ আউট করেন তিনি। ৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা তার কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা তুলতে এসে টাকায় কমতি পড়ে তার।

কাইয়ুম বলেন, ‘বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানো আমাদের কাছে সহজ। শুনেছিলাম অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা উঠানোর খরচ আরও কমবে। এখন দেখি উল্টো। আমাদের দেশে এই হয়।’

মোমিন খান নামের এক চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন খরচ তো উল্টো মোবাইলের থেকে অ্যাপে বাড়ল। কারণ অ্যাপে এক হাজারে চার্জ দিতে হবে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে মোবাইলের ইন্টারনেটের খরচ যোগ করে দেখেন। এগুলো যোগ করলে মোবাইলের চেয়ে অ্যাপে খরচ অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

অনামিকা করিম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বিকাশও আছে, রকেট অ্যাকাউন্টও আছে। আগে রকেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতাম। অ্যাপ আসার পর বিকাশ ব্যবহার করতাম। এখন ফের রকেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করব। আর রকেট অ্যাকাউন্টের টাকা ডাচ বাংলার বুথ থেকেও তোলা যায় আরও কম খরচে। বিকাশে পড়ে থাকার কোনো কারণ দেখি না। আর বিকাশ অ্যাপেও অনেক সমস্যা। নিজে নিজেই ব্লক হয়ে যায়।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বিকাশ। সেই সময় থেকে গত ৭ বছরে কয়েক দফায় মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের চার্জ বাড়িয়েছে তারা। 

শুরুতে হাজারে খরচ ১২ টাকা থাকলেও প্রতিবারই আড়াই থেকে সাড়ে ৩ টাকা করে চার্জ বৃদ্ধি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিকাশের ভাষ্য

অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউটে আড়াই টাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘প্রমোশনাল অফার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিকাশ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অ্যাপ উন্মোচনের পর প্রমোশনাল অফার ছিল এটি।

প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে মেইলের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘এ বছর এপ্রিল মাসে বিকাশ অ্যাপ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রমোশনাল অফার হিসেবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে প্রচলিত ১.৮৫% ক্যাশ আউট চার্জ কমিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশআউট চার্জ ১.৫% নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রমোশনাল অফার শেষে গ্রাহকদের অবহিত করে আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ ১.৭৫%  নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ডালিমের কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে থাকা অ্যাপ উন্মোচন পরবর্তী বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের ভিডিও যাচাই করা হয়। ভিডিওগুলোর কোথাও ‘প্রমোশনাল অফার’ জাতীয় লেখা বা শব্দের উচ্চারণ শোনা যায়নি। এমনকি মাশরাফি বিন মুর্তজার অংশ নেওয়া অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউট সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপনে অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউট চার্জ ১.৫% টাকাও স্পষ্টভাবে দেখানো হয়। সেখানেও এ ধরনের কোনো ‘প্রমোশনাল অফার’-এর কথা উল্লেখ করা ছিল না।

একই মেইলে কেন চার্জের পরিমাণ বাড়ানো হলো এবং চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি বিকাশ কর্তৃপক্ষ।

প্রিয় প্রযুক্তি/আজহার