অরোরা স্টেশন থেকেই এমনটা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

এক দিনে দেখা যাবে ১৬টি সূর্যোদয়!

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস টেকনোলজি স্টার্ট-আপ কোম্পানি ওরিয়ন স্প্যান তৈরি করছে এই স্টেশন। এই স্পেস স্টেশনে একসাথে ছয় জন মানুষ থাকতে পারবেন। এর মাঝে দুই জন ক্রু মেম্বার।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২১ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২১
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২১ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২১


অরোরা স্টেশন থেকেই এমনটা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দিনে ১৬টি সূর্যোদয় দেখতে চান? ভরশূন্য পরিবেশে ভেসে বেড়াতে চান? মহাশূন্য থেকে পৃথিবীকে দেখতে চান? তা সম্ভব হতে চলেছে। দুই বছরের মাথায় আপনার কাছে যদি ৯.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকে, তাহলে আপনি পৃথিবীর প্রথম লাক্সারি স্পেস হোটেল অরোরা স্টেশনে থাকতে পারবেন এবং এসব অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস টেকনোলজি স্টার্ট-আপ কোম্পানি ওরিয়ন স্প্যান তৈরি করছে এই স্টেশন। এই স্পেস স্টেশনে একসাথে ছয় জন মানুষ থাকতে পারবেন। এর মাঝে দুই জন ক্রু মেম্বার। একটানা ১২ দিন মহাশূন্যে কাটানো যাবে এই স্টেশনে থাকলে। স্টেশনটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে ২০২১ সালে এবং ২০২২ সাল থেকে সেখানে অতিথিরা থাকতে পারবেন।

ওরিয়ন স্প্যানের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা ফ্র্যাঙ্ক বাঙ্গার জানান, মহাকাশচারী ছাড়াও অন্যদের জন্য মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করতে চান তারা, অবশ্যই তার জন্য অনেক খরচ হবে। এই খরচ করলে ওরিয়ন স্প্যান আপনাকে তিন মাসের মাঝে মহাকাশযাত্রার জন্য প্রস্তুত করে ফেলবে।  এরপর ১২ দিনের জন্য আপনি উড়বেন লো আর্থ অরবিট উচ্চতায়, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মাইল উঁচুতে। এখানে থেকে আমাদের নীল গ্রহটিকে দেখতে পাবেন আপনি।

প্রতি ৯০ মিনিটে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে এই স্পেস স্টেশন। এ কারণেই ২৪ ঘণ্টার মাঝে ১৬টি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখতে পাবেন আপনি।

অরোরা স্টেশনে এই ১২ দিন ধরে আপনি কি করবেন? সেখানে ছোটখাটো গাছপালা জন্মাতে পারেন, তা স্যুভেনির হিসেবে নিয়েও যেতে পারেন বাড়িতে। আপনার জন্মস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারেন। জিরো-গ্র্যাভিটিতে পিং-পং খেলতে পারেন। সেখানে ভালো মানের ইন্টারনেট আছে, ফলে আপনি বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সাথে ভিডিও চ্যাট করতে পারেন।  শুধু তা-ই নয়, নামের সাথে মিল রেখে আপনি পৃথিবীর দুই মেরুর অরোরা বা মেরুপ্রভাও দেখতে পারেন।

অরোরা স্টেশন হবে ১২ ফুট চওড়া ও ৩৫ ফুট লম্বা, মোটামুটি একটা বড় প্রাইভেট জেটের সমান। এতে ঘুমানোর জায়গা থাকবে, মহাশূন্যে খাওয়ার উপযোগী খাবার থাকবে আর এই স্টেশনের ভেতরকার ডিজাইন হবে বিলাসবহুল।

শুধু ওরিয়ন স্প্যান নয়, অ্যাক্সিয়োম স্পেস নামের আরও একটি কোম্পানি ২০২৪ সাল নাগাদ কমার্শিয়াল স্পেস স্টেশন উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে কাজ করছে। ভার্জিন গ্যালাকটিক কোম্পানিটি ২০০৯ সাল নাগাদ মহাশূন্যে প্যাসেঞ্জার নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তাদের প্রথম ফ্লাইটটি সম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

অনেকেই ভাবতে পারেন, এতগুলো ডলার গুনে মাত্র ১২ দিনের জন্য মহাকাশে থাকবে কয়জন? এই কোম্পানি তো লাটে উঠবে! তবে বাঙ্গার জানান, শুধু হোটেল সেবা নয়, গবেষণার স্বার্থে আরও কিছু সেবা দিতে পারবে তারা।

সূত্র: সিএনএন

প্রিয় লাইফ/আর বি/আজাদ চৌধুরী