সংকেত আগারওয়াল (ডানপাশে উপরে) ও জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না শাওমি: সংকেত আগারওয়াল

গ্রাহকদের প্রাধান্য দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২০ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৬
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২০ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৬


সংকেত আগারওয়াল (ডানপাশে উপরে) ও জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দেশে শাওমির যাত্রা বেশি দিনের নয়। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ঘোষণা দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রা শুরুর এই অল্প সময়ের মধ্যে দেশে মোবাইল মার্কেট শেয়ারের দিক থেকে শীর্ষ তিনের অবস্থানটি দখলে নেয় শাওমি।

সম্প্রতি এই প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারে নতুন দুটি স্মার্টফোন নিয়ে আসার ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠান শেষে স্বল্প পরিসরে প্রিয়.কমের কথা হয় ভারতীয় উপমহাদেশের শাওমির ওভারসিজ এক্সপানশন হেড সংকেত আগারওয়াল ও শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে।

প্রিয়.কমের সঙ্গে কথোপকথনে শাওমি জানিয়েছে, দেশে থাকা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাওমি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না। এর কারণ গ্রাহকদের প্রাধান্য দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

তারা আরও জানান, দেশে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন ও প্রযুক্তিবিষয়ক পণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভাবনা রয়েছে দেশে স্মার্টফোন কারখানা, ই-বর্জ্য বিষয়ে নজর দেওয়ার বিষয়েও।

দেশে শাওমির যাত্রা সম্পর্কে....

সংকেত আগারওয়াল: শাওমি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রায় দুই-তিন বছর ধরে বাংলাদেশে আছে। তবে, আমরা কোম্পানি হিসেবে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে যাত্রা শুরু করেছি। সব গ্রাহক, বন্ধু-বান্ধব ও আশপাশের মানুষের শাওমির জন্য এতো ভালোবাসা ও চাহিদা দেখে তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে আমাদের সেলস-কে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে এখানে উপস্থাপন করতে হবে। তখন থেকেই আমরা নিজেদেরকে আরও উন্নত করতে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে আসার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা এই স্থান থেকে যে সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি সেটি সত্যিই চমৎকার।

লাভ-লোকসানের দিক থেকে দেশে শাওমির বর্তমান অবস্থা কেমন?

সংকেত আগারওয়াল: কোনো কোম্পানির পক্ষেই লাভ ছাড়া তার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা একটি করপোরেট কোম্পানি এবং পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানি। হংকং স্টক এক্সচেঞ্জেও আমরা তালিকাভুক্ত। তাই আমরা অবশ্যই মুনাফার জন্য কাজ করি তবে সেটি অতিরিক্ত নয়। অন্যান্য কোম্পানির মতো আমরা আমাদের মার্জিন বাড়ানোর চেষ্টা করি না। আমাদের কোম্পানির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের মার্জিন ৫%-এর মাঝেই রাখি এবং সে লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তবে আমরা একটি লাভবান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশেও।

দেশে কোন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে শাওমি?

সংকেত আগারওয়াল: কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখি না। আমাদের লক্ষ্য হলো যেন আমরা সেরা পণ্য, সেরা সব স্পেসিফিকেশন, সেরা মানের পণ্য নিয়ে আসা এবং সেটির জন্যই আমরা কাজ করছি। তাই আমরা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে বরং আমাদের জন্য, আমাদের গ্রাহকদের জন্য কোনটি সঠিক সেটি বিবেচনা করি। ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সামাজিক ও অন্যান্য মাধ্যম দ্বারা আমরা খুবই কানেক্টেড। আমরা সেটিই করতে ক্রমাগত চেষ্টা করছি যেটি আমাদের গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে আশা করে।

পরের বছর দেশে নিজেদের কোন অবস্থানে দেখতে চায় শাওমি?

সংকেত আগারওয়াল: ভালো কিছু করার পর আপনি যখন ভালো ফলাফল পান তখন আপনি নিশ্চয়ই আনন্দিত হন, তা কেননা সত্যিই খুব প্রশান্তিদায়ক। তবে আমরা কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানের জন্য কাজ করছি না। যেমন আমরা যদি প্রথম বা দ্বিতীয় হই তার মানে এই নয় আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখবো না। তবে এটি সত্যি আমরা ভালো কিছু করার পর যদি কোনো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাই সেটি অবশ্যই আমাদেরকে আনন্দিত করবে।

দেশে শাওমিকে নিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: যেকোনো কিছু শুরুর পথে কিছু কঠিন সময় তো পার করতেই হয়। তবে আমরা সত্যিই গর্বিত যে আমাদের একটি বড় সংখ্যার মি ফ্যান (শাওমি ভক্ত) গ্রুপ রয়েছে। তাদের ভালোবাসা তাদের সমর্থন আমাদের এই যাত্রাকে অনেকখানিই সহজ করে দিয়েছে।

দেশে কারখানা করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে শাওমি?

সংকেত আগারওয়াল: আমাদের এরকম পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে আছি যা থেকে আমরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।

দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে শাওমির ভাবনা কি?

সংকেত আগারওয়াল: আমরা খুব বেশিদিন হয়নি বাংলাদেশে এসেছি। তবে কোম্পানি হিসেবে আমরা খুবই দায়িত্ববান। আমাদের বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি যাতে তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের সহায়তা করে। আমাদের সকল আউটলেট এবং শো রুমে কালেকশন পয়েন্ট রয়েছে। আমরা ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো রিসাইক্লিংয়ের জন্য পাঠাই। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারটি নিয়ে আমরা আরও চিন্তা-ভাবনা করবো।

গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে শাওমি কি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে?

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: এটাতে আমরা কিছুটা ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা কিছু এসএমএস গেটওয়ে চালু করেছি। আমরা গ্রাহকদের সচেতন করছি। পাশাপাশি সরকারও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারও এসএমএস গেটওয়ে চালু করেছে। শোনা যাচ্ছে, এটি বন্ধে আরও কিছু নীতিমালা আসছে। আমরা আশা করি, গ্রে মার্কেটের দৌরাত্ম্য কমে আসবে তখন আমাদের পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে।

সরকারের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছে শাওমি?

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: আমরা এখানে কয়েকদিন ধরেই কাজ করছি, তবে এই কয়দিনের মাঝেই আমরা খুব ভালো সমর্থন পাচ্ছি। যার ফলে আমাদের ব্যবসায়ে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হচ্ছে। যেমন গ্রে মার্কেট এমনই একটি এরিয়া যা নিয়ে আমাদের পাশাপাশি সরকারও কাজ করে যাচ্ছে। আমি মনে করি আমরা যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি এবং আমরা এটিতে সত্যি আনন্দিত।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...