সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ব্ল্যাক হোলের ঘোলাটে ছবিটা সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্ল্যাক হোলের ভেতরে কী আছে?

ব্ল্যাক হোল আসলে কী, আর এর ভেতরে আসলে কী থাকে?

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৪৮ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৪৮
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৪৮ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৪৮


সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ব্ল্যাক হোলের ঘোলাটে ছবিটা সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করলে কখনো না কখনো হয়তো কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের কথা শুনেছেন। আবার কিছুদিন আগে একটি ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ করে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন গবেষকরা, সেটাও হয়তো দেখে থাকবেন। কিন্তু ব্ল্যাক হোল আসলে কী, আর এর ভেতরে আসলে কী থাকে?

প্রথমেই জেনে রাখুন, এতদিন বইয়ে ব্ল্যাক হোলের যত ছবি দেখে এসেছেন সবই নকল। শুধুমাত্র তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের ওপর ভর করে ব্ল্যাক হোল কেমন হতে পারে, তার কাল্পনিক ছবি ছিলো সেসব। এ কারণেই সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ব্ল্যাক হোলের ঘোলাটে ছবিটা এত সাড়া ফেলেছে, তা এযাবৎকালে প্রকাশিত ব্ল্যাক হোলের প্রথম ও একমাত্র ছবি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব আসলেই আছে।

এরপর আসা যাক প্রশ্নে। ব্ল্যাক হোলের ভেতরে কী আছে জানতে হলে আপনার আগে জানা থাকতে হবে ব্ল্যাক হোল আসলে কী।  

কাকে বলে ব্ল্যাক হোল?

ব্ল্যাক হোল নামটা জানা থাকলেও তা আসলে কী এ বিষয়ে সবার স্পষ্ট ধারণা নেই। ব্ল্যাক হোল হলো এতই বিশাল একটি বস্তু যে তার গ্রাভিটি বা মহাকর্ষের টানটাও ভয়ঙ্কর বেশি। এটা হয়ত সবাই জানেন, যে একটি জিনিস যত বড় হয় তার গ্রাভিটি তত বেশি। এ কারণে ফুটবলের তেমন কোনো গ্রাভিটি আমরা বুঝি না, কিন্তু পৃথিবীর গ্রাভিটির টানে আমরা তার ওপর আটকে থাকি, কোনো কিছু ফেলে দিলে তা নিচের দিকেই পড়ে। তা ব্ল্যাক হোলের এই টানটা এতই বেশি, যে আলোও সেই টানের ঊর্ধ্বে নয়।  ব্ল্যাক হোল এর আশপাশের স্পেশ বা মহাশূন্য, এমনকি সময়কেও কুঁচকে ফেলে। এ দুটোকে একসঙ্গে স্পেসটাইম বলা হয়। ব্ল্যাক হোল এর আশপাশে যা আছে সবকিছুকে টেনে নিজের ভেতরে নিয়ে আসে, এমনকি আলোকেও। এর ভেতর থেকে আলো বের হতে পারে না বলেই তাকে দেখায় নিকষ কালো, প্রায় অদৃশ্য, ফলে তাকে ব্ল্যাক হোল বলা হয়।

ব্ল্যাক হোল কী করে তৈরি হয়?

ব্ল্যাক হোল তখনই তৈরি হয় যখন বেশি পরিমাণে বস্তু অনেক ছোট জায়গায় চেপে আসে। যেমন, বিশাল আকারের নক্ষত্রের জ্বালানি যখন শেষ হয়ে যায়, তারা নিজেই নিজের গ্রাভিটির টানে ছোট হয়ে আসে, ফলে ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়। যে ব্ল্যাক হোলের ছবি আমরা দেখছি, তা কোনো একটি হাইড্রোজেন মেঘের নক্ষত্র থেকে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ব্ল্যাক হোলের ভেতরে কী আছে?

ব্ল্যাক হোল যদিও চোখে দেখা যায় না, তবে গবেষকরা ধারণা করতে পারেন এর ভেতরে কী আছে।  ব্ল্যাক হোলকে ঘিরে একটি জায়গা থাকে যা পার হলে কোনো বস্তু আর ফিরে আসতে পারে না, এই সীমানাকে বলে ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত। ইভেন্ট হরাইজনের আগে পর্যন্ত ব্ল্যাক হোলকে ঘিরে কিছু উজ্জ্বল, উত্তপ্ত গ্যাস দেখা যায়। সম্ভবত এর ভেতরে গ্যাস (যেমন হাইড্রোজেন) গিয়ে কেন্দ্র বরাবর একটি মাত্র বিন্দুতে চেপে আসে, যাকে বলা হয় ‘সিঙ্গুলারিটি’। তখন আর এটা হাইড্রোজেন গ্যাস থাকে না। কিন্তু তা কিসে রূপান্তরিত হয়, সেটা এখনও মানুষের কল্পনা বা তাত্ত্বিক অনুমানের বাইরে। ইভেন্ট হরাইজন থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সিঙ্গুলারিটি পর্যন্ত কেবলই খালি জায়গা আছে বলে ধারণা করা হয়। মূলত, একটি বস্তু ব্ল্যাক হোলের ভেতর চলে গেলে তাকে আর কোনো উপায়ে পরিমাপ করা যায় না। স্টিফেন হকিং অবশ্য এক গবেষণাপত্রে দাবি করেন, মৃতপ্রায় ব্ল্যাক হোলগুলো থেকে কিছু পরিমাণে পদার্থ ‘লিক’ করে বাইরে চলে আসতে পারে।

নতুন ছবি থেকে কী বোঝা যাচ্ছে?

ব্ল্যাক হোলের এই নতুন ছবিটি আসলে একটি ফটোগ্রাফ নয়। বরং বিশ্বের আটটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (যেগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ) থেকে গৃহীত তথ্য মিলিয়ে এই ছবি তৈরি করা হয়েছে। এই ছবিতে উজ্জ্বল জায়গাগুলোকে বলা হয়ে অ্যাক্রেশন ডিস্ক, এগুলো আসলে ইভেন্ট হরাইজনের ঠিক আগে থাকা কিছু উত্তপ্ত ও উজ্জ্বল গ্যাস যা এই ব্ল্যাক হোলকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। মাঝখানের কালো অংশটা হলো ব্ল্যাক হোলের ‘ছায়া’। যেহেতু ব্ল্যাক হোল থেকে কোনো আলো আসে না তাই তা আসলে আমাদের কাছে অদৃশ্য, আমরা শুধু ছায়াটাই দেখতে পারি। তবে এই ছবিটা থেকেই অনেক গবেষণায় গতি পাবে এবং এমন সব তথ্য আমরা পাব যা মহাবিশ্বের কিছু রহস্য ভেদ করতে কাজে আসবে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

প্রিয় লাইফ/রুহুল