বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর একই পদে আহসান উল্লাহ’র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। ছবি : প্রিয়.কম

শিবপুরে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরির অভিযোগ

পরিচয় গোপন করে আহসান উল্লাহ তার স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রাম ব্যবহার করে চাকরির আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যোগদানের একমাস পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৩ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৫
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৩ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৫


বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর একই পদে আহসান উল্লাহ’র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। ছবি : প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) নরসিংদীতে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) পদে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। জেলার শিবপুরের চক্রধা ইউনিয়নে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম কাজী মো. আহসান উল্লাহ, যার বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলায়। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির আবেদন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর একই পদে আহসান উল্লাহ’র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে আহসান উল্লাহসহ পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্মকর্তাদের বিবাদী করেন।

পরবর্তী সময়ে বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারকারী আহসান উল্লাহকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে ১ এপ্রিল একটি রুল জারি করেন। রুলে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক’ পৃথক শূন্য পদে নারী ও পুরুষ নিয়োগে ২০১৫ সালে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়নের শূন্যপদে কেবল সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। শূন্য পদের মধ্যে শিবপুরের চক্রধা ইউনিয়নে একজন পুরুষ নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। সেই পদের জন্য আবেদন করেন আহসান উল্লাহ, যিনি নরসিংদী জেলারই বাসিন্দা নন। তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামের কাজী খলিলুর রহমান ছেলে। পরিচয় গোপন করে আহসান উল্লাহ তার স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রাম ব্যবহার করে চাকরির আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলির ১১ নম্বরে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (পুরুষ) পদে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হবে। শর্তের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, স্থায়ী বাসিন্দা ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ক্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে বা প্রমাণিত হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। 

তিন বছর পর ২০১৮ সালের ২৩ মার্চ ওই পদের আগ্রহী প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা হয় এবং ১৫ এপ্রিল ফলাফল ঘোষণা করে পাঁচজন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ১৫ মে মৌখিক পরীক্ষার আহ্বান করা হয়। পরে ১১ অক্টোবর আহসান উল্লাহ’র নামে পরিবার পরিকল্পনা ঢাকা বিভাগের পরিচালক ব্রজ গোপাল ভৌমিক (অতিরিক্ত সচিব) স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে ১৬ অক্টোবর তিনি চাকরিতে যোগ দেন।

যোগ দেওয়ার এক মাস পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে। পরে গত ডিসেম্বরে আহসান উল্লাহ কানাহোটা গ্রামের তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কিছু সম্পত্তি দানে গ্রহণ করেন। পরে তার স্থায়ী ঠিকানা শিবপুর উল্লেখপূর্বক পুলিশ ভেরিফিকেশন নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।

হাইকোর্টের নির্দেশনা। ছবি: প্রিয়.কম

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকজন দিয়ে বিশেষভাবে তদবির চালাচ্ছেন তিনি।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, যোগদানের সময় আহসান উল্লাহ তার জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেননি, দিয়েছেন একটি জন্মনিবন্ধন সনদ।

নিয়োগপত্রের শর্তাবলীতে থাকা সত্ত্বেও যোগদানের সময় শিবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পা অফিস কেন তার জাতীয় পরিচায়পত্রের পরিবর্তে জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করেন তা রহস্যজনক।

চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রাম এখন শিবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার বাদল মিয়া বলেন, ‘কাজী আহসান উল্লাহ আমার বাড়িতে এসেছিল তার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে। আমি যেন তাকে কানাহোটা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে একটি প্রত্যয়নপত্র দেই। যেহেতু সে এই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা না এবং আমিও তাকে চিনি না। তাই আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দেইনি।’

চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বেনজির আহম্মেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি কাজী আহসান উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি কানাহোটা গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি করছেন। তবে আমার জানামতে কাজী মো. আহসান উল্লাহ উক্ত গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নয়।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাজী আহসান উল্লাহ বলেন, ‘নাগরিক পরিচয়পত্র না থাকায় আমি জন্মসনদ দিয়ে আবেদন করেছি, জাতীয় পরিচয়পত্র দেশের যেকোনো স্থান থেকে করা যায়। আমি এটা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি। আমার কাগজপত্র যদি স্বপক্ষে থাকে তাহলে আমার চাকরি থাকবে বলে আমি আশাবাদী।’

নরসিংদী পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ দত্ত বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে সেহেতু হাইকোর্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এখানে আমার এখতিয়ার নেই।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল/রিমন