ছবিটি প্রতীকী, ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত।

ছোট শিশুটি রোজা থাকছে? জেনে নিন কী খাওয়াবেন না

সন্তান রোজা রাখছে বলে সকল মা-বাবাই তাদের সন্তানের জন্য সেহরি ও ইফতারিতে যথাসাধ্য আয়োজন করেন, সন্তানের পছন্দের সকল খাবার হাজির করেন। কিন্তু এই কাজটি কি ঠিক? আপনার এই আদরে সন্তানের স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে না তো?

রুমানা বৈশাখী
বিভাগীয় প্রধান (প্রিয় লাইফ)
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০১৯, ২১:৩০ আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, ২১:৩২
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০১৯, ২১:৩০ আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, ২১:৩২


ছবিটি প্রতীকী, ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত।

(প্রিয়.কম) মুসলমান পরিবারগুলোতে ৭/৮ বছর বয়স থেকেই রোজা রাখার চর্চা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আপনার শিশুটিও কি রোজা রাখছে? বলাই বাহুল্য যে এবার গ্রীষ্মকালে রমজান হওয়ায় দিনগুলো অনেক লম্বা আর তীব্র গরমের। এমন সময়ে, সন্তান রোজা রাখছে বলে সকল মা-বাবাই তাদের সন্তানের জন্য সেহরি ও ইফতারিতে যথাসাধ্য আয়োজন করেন, সন্তানের পছন্দের সকল খাবার হাজির করেন। কিন্তু এই কাজটি কি ঠিক? আপনার এই আদরে সন্তানের স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে না তো?

জেনে নিন ছোট সোনামণিদের রোজায় তাদেরকে কী খাবার দেবেন আর কী দেবেন না।

ইফতারের খাবার

মনে রাখবেন, আপনি যেভাবে অভ্যাস করবেন ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠবে আপনার সন্তানের খাদ্যাভাস। তাই চর্চা শুরু হোক এখনোই। সন্তানকে ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের রস দিন ইফতারে। লাচ্ছির ব্যবস্থাও রাখতে পারেন। তবে যেকোনো একটি। সারাদিন রোজার শেষে একসঙ্গে অনেকটা পানীয় একেবারেই খাওয়ায় উচিত নয়, এতে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে।

কোনো অবস্থাতেই কেনা শরবত বা কেনা খাবার দেবেন না। শিশুরা টুকটাক ভাজা-পোড়া খাবেই, কিন্তু তা বাইরে থেকে না কিনে বাসায় তৈরি করে দিন। আপনার হয়তো কষ্ট হবে, কিন্তু আপনার সন্তান থাকবে সুস্থ। একই সঙ্গে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে রেস্তোরাঁয় ইফতার করা পরিহার করুন। কিন্তু ভাজা-পোড়ার সঙ্গে রাখুন প্রচুর পরিমাণে ফল, দই-চিড়া, ছোলা ইত্যাদি। অবশ্যই খেজুর খেতে দিন। সমস্ত ইফতারি কম পরিমাণে আয়োজন করুন। কেননা ইফতারে অনেক হাবিজাবি খেয়ে ফেললে বাচ্চা আর রাতের খাবারে কিছু খেতে চাইবে না। কিন্তু বাচ্চাদের জন্যে রাতের খাবারটি খাওয়া জরুরি, যেহেতু তারা ঠিকভাবে সেহেরি করে না। চকলেট খাওয়া হতে বিরত রাখুন।

রাতের খাবার ও সেহেরি

রাতের খাবার ও সেহেরি আয়োজন করুন একদম সাদামাটা। পোলাও-বিরিয়ানি বা এই ধরনের কোনো ভারী খাবারের ব্যবস্থা করবেন না। ভাজা খাবার তো একদম না। সাধারণ ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, সালাদ ইত্যাদির ব্যবস্থা করুন। রেস্তোরাঁয় খাওয়ার অভ্যাস এ ক্ষেত্রেও পরিহার করুন। ইফতারের পর থেকে সন্তানকে অল্প অল্প করে পানি খাওয়ান, নাহলে দেখা দিতে পারে পানিশুন্যতা। অন্যদিকে সেহেরিতে ভারী কিছু খেতে না চাইলে দিতে পারেন দুধ ভাত, দই ভাত কিংবা এক মুঠো খেজুর। ভাজা বা কেনা খাবার কোনো অবস্থাতেই নয়।

মনে রাখবেন, রমজানের অর্থ সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কষ্ট উপলব্ধি করা। রোজা রাখার পর যদি বাচ্চাকে বাইরে থেকে কেনা হরেক রকম ভালোমন্দ খাবারে ডুবিয়ে দেন, তাহলে রমজানের মূল উদ্দেশ্যটিই হারিয়ে যায়। অনাহারে দিন কাটাবার কষ্ট ও রমজানের উদ্দেশ্য আপনার সন্তান কখনোই উপলব্ধি করবে না। এতে আপনার সন্তানের নীতিগত ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যাহত হবে। খাবার দিন স্বাস্থ্যকর ও ঘরে তৈরি। বাচ্চারা হাবিজাবি খেতে চাইবেই। সেই ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সন্তানের স্বাস্থ্যহানি ডেকে আনবেন না।

প্রিয় লাইফ/কামরুল