ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুজ্জামান জনি। ছবি: সংগৃহীত

জনির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

গৌরীপুর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০১৯, ১৭:০৬ আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, ১৭:০৬
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০১৯, ১৭:০৬ আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, ১৭:০৬


ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুজ্জামান জনি। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুজ্জামান জনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

২৩ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

১৮ মে, শুক্রবার নুরুজ্জামান জনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুজ্জামান জনি একই এলাকার কুমড়ি গ্রামের মৃত সিদ্দিক মাস্টারের ছেলে। তিনি মাওহা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, নুরু মিয়া চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় নিহত নুরুজ্জামান জনি প্রায়ই নুরুকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুন্দর জীবনযাপনের জন্য বলতেন। গত কিছুদিন আগে নুরুকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ আটক করে। নুরুর মনে সন্দেহ জাগে নুরুজ্জামান জনিই তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ধারণা থেকেই প্রতিশোধ নিতে নুরু সুযোগ খুঁজতে থাকেন এবং জনিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্ত বিচার দাবি করেন। হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর করতে মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনি জীবিকার তাগিদে কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থান করেন। শুক্রবার ছুটি থাকায় গত বৃহস্পতিবার বাড়ি আসেন। শুক্রবার ইফতার শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় নওহাটা বাজারে যাওয়ার সময় নুরু মিয়ার লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় জনিকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. সোহেল রানা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন স্বপন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক নাজমুন নাহার পপি, গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নুরু এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। কিছুদিন আগে তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। তার ধারণা নিহত জনিই তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এমন সন্দেহের জেরেই জনিকে হত্যা করা হতে পারে। দায়েরকৃত মামলাটি বর্তমানে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা মোছা. দেলোয়ারা খাতুন ঝর্ণা নাম উল্লেখ করে ১৭ জন এবং অজ্ঞাত আরো ছয় জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গৌরীপুর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী