কুমিল্লার আদালতে খুন হন ফারুক (বামে) ও সুপ্রিম কোর্ট (ডানে) । ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় এজলাসের ভেতর খুন; সব আদালতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বিচারকসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৭:০২ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৭:০২
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৭:০২ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৭:০২


কুমিল্লার আদালতে খুন হন ফারুক (বামে) ও সুপ্রিম কোর্ট (ডানে) । ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিচার চলার সময় আদালতের এজলাসের ভেতরে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনাটি সর্বত্র আলোচিত সমালোচিত। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েও। আদালত প্রাঙ্গণ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বিচারক, আইনজীবী, আইন কর্মকর্তাসহ বিচারপ্রার্থীরা নিয়মিত আসেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আদালত পাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা বেশি থাকার কথা। কিন্তু সেটি প্রমাণ করা যায়নি কুমিল্লার আদালতে। দিনে দুপুরে তাও আবার বিচারকের সামনে আদালতের এজলাসের ভেতরে খুন বিচার বিভাগের জন্য সম্মান হানির কি না। সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন একজন নারী আইনজীবী। সেই ‍রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একট ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রতি। 

১৭ জুলাই, বুধবার এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট বিচারকের সামনে একজনকে হত্যার প্রেক্ষিতে সারা দেশের আদালত কক্ষ, বিচার প্রার্থী, আইনজীবীদের নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে কুমিল্লার ঘটনায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে আদালতকে জানাতে হবে।

বিচারকসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

বুধবার শুনানির শুরুতেই আদালত বলে, ‘কুমল্লিার পর গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বারেও একটি ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কোর্টে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের সিকিউরিটি (নিরাপত্তা)র জন্য কী পদক্ষেপ নিলেন?

মামলার শুনানিতে এসে  ‍খুন হন ফারুক (বামে) খুনি হাসান (ডানে) । দুজন একে অপরের মামাত ফুফাতো ভাই। ফাইল ছবি   

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘কুমিল্লা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের দুটি ঘটনাই ব্যক্তিগত।’ এ সময় আদালত বলে, ‘ব্যক্তিগত হোক আর যাই হোক। কোর্টের ভেতরে ছুরি নিয়ে কীভাবে যায়? পুলিশ কী করে? অবশ্যই এটা পুলিশের অবহেলা।’

তখন আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, ‘নিরাপত্তাতা সবার জন্য। উনিও (রাষ্ট্রপক্ষের) এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী, বিচারকসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আদালত রিট আবেদনটি ৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ওভার’ রাখেন।

কুমিল্লার আদালতে বিচারকের সামনেই খুন

গত ১৫ জুলাই কুমিল্লার একটি আদালতে বিচারকের সামনে এক আসামির হাতে আরেক আসামির খুনের ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে আদালত থেকে বের করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যওয়ার সময় হাসপাতাল মারা যান ফারুক।

১৫ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত কক্ষে বিচারকের সামনে আসামি হাসান একই মামলার অপর আসামি ফারুককে ছুরিকাঘাত করেন। ফারুক ও হাসান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং তারা দুজনেই একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে তারা আদালতে এসেছিলেন বলেও জানান আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি লিয়াকত আলী বলেন, ‘আদালত কক্ষে বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের সামনেই ফারুককে ধাওয়া করেন হাসান। এ সময় ফারুক একটি টেবিলের নিচে লুকানোর চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন হাসান।’ পুলিশ তাৎক্ষণিক হাসানকে আটক করে ফেলে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার আগে আসামিদের কেউ পুলিশের হেফাজতে ছিলেন না। তারা নিজেদের মতো করে শুনানিতে হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। এর আগে গতকাল ১৬ জুলাই কুমিল্লা আদালতে বিচারককের সামনে হত্যার ঘটনায় আদালত অঙ্গন ও বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।