নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগও উঠেছে ইমাম-উল হকের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

‘তুমি একজন জঘন্য মানুষ, যৌনতা ছাড়া কিছু বোঝো না’

‘আমাকে কেন বলেছিলে, ভালোবাসো? কেন বলেছিলে, তোমার কাছে যেতে? কারণ তুমি একজন জঘন্য মানুষ, যৌনতা ছাড়া কিছু বোঝো না।’

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৫ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৫
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৫ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৫


নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগও উঠেছে ইমাম-উল হকের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিতর্ক ও পাকিস্তান ক্রিকেট যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল। মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি বিতর্কের সঙ্গে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের রয়েছে পুরানো সখ্যতা। মাঝেমধ্যেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আলোচনায় উঠে আসে দেশটির সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নাম।

এবার সেই বিতর্কের তালিকায় নাম জড়ালেন ইমাম-উল হক। সেটাও যেনতেন কোনো বিতর্ক নয়, ‘মিটু’ (#MeToo) বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তরুণ এই পাকিস্তানি ওপেনারের। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল হকের ভাতিজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, একাধিক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাটিং করেছেন তিনি। নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তরুণ এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।

এখানেই শেষ নয়। একাধিক নারীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে ইমামের কথোপকথনের স্ক্রিনশটও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একদিনের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ে এক নারীর সঙ্গে এই পাকিস্তানি ওপেনারের অন্তরঙ্গ ছবি। মুরতাজা আলী নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী ছবিটি পোস্ট করেন।

এর আগে একাধিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ইমামের চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একাধিক মেয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন চলছে ইমামের। স্ক্রিনশটগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে, সেসব মেয়েদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ইনজামামের ভাতিজার।

আমান নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী এসব স্কিনশট প্রকাশ করেন। ছবি: সংগৃহীত

এখন পর্যন্ত চারজন মেয়ের সাথে হওয়া ইমামের চ্যাটিং ভাইরাল হয়েছে। এদের মধ্যে কাউকে ‘বেব’ বলে সম্বোধন করছেন ইমাম, কারো সাথে আবার ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করতে দেখা যায়! আরেকটি মেয়ের কাছে রীতিমতো ‘হট ও সেক্সি’ ছবিও চেয়েছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি এই ওপেনার। আরেকটি চ্যাটে দেখা যায়, এক নারীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন ইমাম।

আরেকটি চ্যাটিংয়ে দেখা যায়, ইমামের ওপর অত্যন্ত রেগে গেছে একটি মেয়ে। ওই মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ইমামের। এখানেই শেষ নয়। এরপর ওই মেয়েটি লেখেন, ‘আমাকে কেন বলেছিলে, ভালোবাসো? কেন বলেছিলে, তোমার কাছে যেতে? কারণ তুমি একজন জঘন্য মানুষ, যৌনতা ছাড়া কিছু বোঝো না।’

এক মেয়ের কাছে রীতিমতো ‘হট ও সেক্সি’ ছবি চাইছেন ইমাম। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গেল ছয় মাস ধরে একই সময়ে সাত থেকে আটজন নারীর সঙ্গে চ্যাটিং করে যাচ্ছেন বাঁহাতি এই পাকিস্তানি ওপেনার। কেবল তাই নয়, তাদের সঙ্গে ডেটিং করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এরপর বাধ্য হয়ে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সাহায্যে কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলো টুইটারে ছড়িয়ে দেন ভুক্তভোগী নারীরা। তারা দাবি করছেন, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ইমামের।

ইমামের চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট পোস্ট করা আমান নামে ওই টুইটার ব্যবহারকারীর দাবি, একসঙ্গে সাত থেকে আটজন নারীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে প্রেমের অভিনয় করছেন ইমাম। সবার কাছেই বাঁহাতি এই ওপেনার দাবি করেছেন যে, তিনি সিঙ্গেল।

ইমামের অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করা মুরতাজার দাবি, অনেক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিল ইমাম। ইনজামামের ভাতিজার সব কীর্তিকলাপের প্রমাণ তার কাছে আছে। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু ভিডিও ও আপত্তিকর চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট। সংশ্লিষ্ট নারীদের অনুমতি নিয়ে পরে তা প্রকাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই মুখ খুলেছেন ইমাম। সেখানে নিজেকে অবশ্য নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। বাঁহাতি এই ওপেনারের দাবি, তাকে ফাঁসানোর জন্য মেয়েরাই নাকি এসব ভুয়া প্রেমের অভিনয় করেছেন। তবে এসব ঘটনা সত্য হলে তিনি যে বড় শাস্তির মুখে পড়বেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রিয় খেলা/রুহুল