ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

নিয়ন্ত্রণের বাইরে ডেঙ্গু

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ হাজার ২৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ বলা হলেও গণমাধ্যম বলছে, এই সংখ্যা ৩৪।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৭ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৭
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৭ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৭


ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজন চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ হাজার ২৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ বলা হলেও গণমাধ্যম বলছে, এই সংখ্যা ৩৪।

প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্লেষক, চিকিৎসক ও গবেষকরা বলছেন, চলতি বছর বিরতি নিয়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এখনই ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করবে। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে মশা মারার জন্য সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ছিটিয়ে থাকে তা কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বিষয়টি স্বীকার করেছে সিটি করপোরেশনও। মশা মারার নতুন ওষুধ আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হলেও এখনো পুরাতন অকার্যকর ওষুধই ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর এক তৃতীয়াংশ ডেঙ্গু রোগী

ঢাকার হাসপাতালগুলোতে যত রোগী এখন ভর্তি হচ্ছেন, তার এক-তৃতীয়াংশ ডেঙ্গু রোগী। আর সরকারি হাসপাতালগুলো রোগীর অবস্থা খুব খারাপ না হলে ভর্তি নিচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দুই-তৃতীয়াংশ রোগীকেই আউটডোর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছি। আর তাদের একটি অংশ আছে যারা আতঙ্কে হাসপাতালে আসেন। অবস্থা ক্রিটিক্যাল না হলে আমরা ভর্তিই করছি না।’

তিনি বলেন, ‘আমার হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে ১০ ভাগেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী। এখন মোট সাড়ে তিনশর মতো ভর্তি আছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন মারা গেছেন। এবার ডেঙ্গুটা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় আমাদের ওপর দিয়ে চাপ যাচ্ছে। বেডের চেয়ে ২০ ভাগ বেশি রোগী ভর্তি আছেন। অনেককেই ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এখন কারো একদিন জ্বর হলেই সেও ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালে চলে আসছে। তবে আমরা কাউকে ফেরাচ্ছি না। বিছানা না থাকলেও যেভাবেই হোক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসা দিচ্ছি।’

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন বেশি

বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল জানান, বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে রোগীও কম আসে, বেডও কম। তারপরও এখন যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের শতকরা ৫০ ভাগই ডেঙ্গু রোগী। আর ভর্তির হিসাবের চেয়ে বাস্তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে। দুই-তিনগুণ।

তিনি বলেন, এবার মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। যে হিসাব সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। ভাইরাসের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। আর এবার যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বড় একটি অংশ আগেই আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে দ্বিতীয়বার বা তৃতীয়বারে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ভয়বাহ। ফলে মৃত্যুর হার বেশি।

ডেঙ্গু এত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে কেন?

মশার ওপর গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি মনে করেন, এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, তবে ডেঙ্গু থেকে নিজেদের রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই। এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

প্রথমত, এডিস মশার ঘনত্ব বেশি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টি হয়েছে। মাঝখানে কয়েকদিন বিরতি নিয়ে আবারও বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়াতে সহজেই পানি জমে থাকছে এবং এডিস মশা সৃষ্টি হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, পানির সমস্যা। ঢাকার অনেক এলাকায় সবসময় ওয়াসার লাইনে পানি থাকে না। ফলে যখন পানি থাকে, তখন অনেকেই ড্রাম বা কোনো পাত্রে পানি ধরে রাখেন। প্রতিদিন সেই ড্রামে পানি রাখলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে সহজেই এডিস মশা লাভা সৃষ্টি করতে পারছে।

তৃতীয়ত, ঢাকায় সারা বছরই ভবন নির্মাণ হয়। এসব নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলে কয়েক বছর ধরে। অনেক সময় ফ্ল্যাট বিক্রি না হওয়ায় এটার সময় আরও বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে এসব নির্মাণাধীন ভবনে ইট ভেজানোর জায়গা থাকে, লিফটের জন্য গর্ত থাকে, ভবনের বিভিন্ন তলায় দেওয়া পানি জমে থাকে। এসব কারণে প্রচুর মশার জন্ম হচ্ছে।

এডিস মশাকে গৃহপালিত মশা আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এই মশার প্রজননক্ষেত্র ঘরের আশপাশে। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এডিস মশা সাধারণত আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে হয়ে থাকে। এজন্য পানির পাত্র, ফুল বা গাছের টব, ছাদে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। আশপাশটা পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে মানুষের পার্টিসিপেশনটা খুব জরুরি।’

কী করছে কর্তৃপক্ষ?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত একজন রোগীও চিকিৎসা সেবার বাইরে নেই। যারা ডেঙ্গু রোগীর সেবা দেন তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এডিস মশা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো, যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ডেঙ্গু হঠাৎ করেই বেশি হওয়ার কারণ এডিস মশা বেশি বেড়ে গেছে। এই মশাগুলো অনেক হেলদি ও সফিস্টিকেটেড, তারা বাসাবাড়িতে বেশি থাকে। তবে আমরা চেষ্টা করছি এই মশা নিয়ন্ত্রণ করতে।’

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এমন সংবাদ পরিবেশনে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের জানতে হবে, দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫-২০ জন মারা যায়, সাপের কামড়ে মারা যায় ১০ জন, হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় শত শত লোক। সে সব খবর আমরা রাখি না। কিন্তু গত কয়েক মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছে মাত্র ৮ জন। তাই আমরা চাই না এ নিয়ে কোনও আতঙ্ক সৃষ্টি হোক।’ 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম দাবি করেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। গত বছর আমাদের ২৮ জন মারা যাওয়ার রেকর্ড আছে। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত একশর বেশি মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছি। ফিলিপিন্সে সাড়ে চারশ মানুষের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। সিঙ্গাপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেকর্ড অনুযায়ী প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষ মারা গেছে।

মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে আইসিডিবিআর,বির গবেষণায় ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তার সম্পর্কে যে বক্তব্য এসেছে তার জন্য ওষুধ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এবং কার্যকরী ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে পরীক্ষান্তে পাওয়া গিয়েছে।’

ডেঙ্গু রোগে পরামর্শ দিতে ডিএনসিসির কল সেন্টার চালু

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের চিকিৎসাসেবায় কল সেন্টার চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কল সেন্টারটির নম্বর: ০১৯৩২-৬৬৫৫৪৪। ২৪ জুলাই, বুধবার থেকে চালু হয়েছে এ কল সেন্টার সেবা। রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি নগর ভবনে স্থাপন করা হয়েছে কল সেন্টারটি। বিষয়টি জানিয়েছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন।

ডিএনসিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে এ কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। কল সেন্টারের নম্বরে যে কেউ ফোন করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। ডিএনসিসির কল সেন্টারটিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

ডেঙ্গু নিয়ে অর্থমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা

বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করি। কিন্তু সেদিনটি ছিল আমার জীবনের চরম কষ্টের। কারণ এর তিনদিন আগে অর্থাৎ ১০ জুন ডেঙ্গু জ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হই। ডেঙ্গুর যন্ত্রণা কী আমি বুঝি। আল্লাহ যেন কারো ডেঙ্গু না দেয় বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দুই দিনব্যাপী ‘গুড প্রজেক্ট ইমপ্লেমেন্টেশন ফোরাম’র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডেঙ্গুর বাজে অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আমি বুঝি। এর যন্ত্রণাও বুঝি। চিকুনগুনিয়ার পরেই আমি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। এ অসুস্থতা নিয়েই ১৩ জুন সংসদে আসি। আমার বিশ্বাস ছিল, প্রস্তাবিত বাজেটটি উত্থাপন করতে পারব। কিন্তু আমি যা ভেবেছিলাম বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিবেশন শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭-৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাংক ছিলাম।’

অথচ গুজব বললেন মেয়র সাঈদ খোকন

ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে “ছেলেধরার” মতো গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়। যে তথ্য এসেছে সাড়ে তিন লাখ আক্রান্তের কাল্পনিক তথ্য.... এটা সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক, বিভ্রান্তিমূলক।’

তিনি বলেন, ‘ছেলে ধরা, সাড়ে তিন লাখ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত একই সূত্রে গাঁথা। সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞ, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদেরা মোকাবেলা করবে। ডেঙ্গু রোগীদের পাশে থেকে কঠিন জবাব দেওয়ার জন্য সরকার প্রতিজ্ঞ।’

হাস্যকর বক্তব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীরও

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ে এক হাস্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো, যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ডেঙ্গু হঠাৎ করেই বেশি হওয়ার কারণ এডিস মশা বেশি বেড়ে গেছে। এই মশাগুলো অনেক হেলদি ও সফিস্টিকেটেড, তারা বাসাবাড়িতে বেশি থাকে।

ডেঙ্গু দমনে বিদেশ থেকে আসছে জিনোটাইপ মশার ডিম

ইতিমধ্যে দেশের ডেঙ্গুর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমন পরিস্থিতে ডেঙ্গু দমনে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বিদেশ থেকে জিনোটাইপ মশার ডিম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে অধিদফতর। এই ডিম থেকে জন্ম নেওয়া জিনোটাইপ মশা এডিসের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করবে। এতে স্বাভাবিক কারণেই ডেঙ্গুর বিস্তার কমে আসবে।

ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনায় প্রধানমন্ত্রীর কাযালয়ের নির্দেশ

২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশেষ সমন্বয় সভা থেকে ডেঙ্গু সম্পর্কে নানান নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার কথা জানান স্বাস্থ্য সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাক্তার, নার্সদের ট্রেনিং ও কাজ সম্পর্কে আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করছি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাইও ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকটি নির্দেশনা তুলে ধরেন।

এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার জন্য প্রত্যেক অফিস প্রধানকে তাদের কর্মীদের নিয়ে রবিবারের মধ্যে সভা করতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেওয়া হবে যেন তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসে।

এ ছাড়াও ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্কাউটদের কাজে লাগাতে হবে, জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা মারতে কার্যকর ওষুধ আনতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছে, সারা দেশের মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত। ঘরে ঘরে মানুষ আক্রান্ত। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নির্মূলে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ওষুধ আনবেন। কীভাবে আনবেন, সেই প্রক্রিয়া কি সেটা বলুন। ঘরে ঘরে মানুষ আতঙ্কিত, আপনারা যখন দেখলেন ওষুধ কাজ করছে না তখন আপনারা নতুন কোনো পদক্ষেপ নেননি কেনো? 

প্রিয় সংবাদ/