বঙ্গবন্ধুকে জানার পাশাপাশি তার আদর্শকে ধারণ করতে হবে, ‘শেয়ার করেও জিতুন’ লাইভে নওফেল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী জানার পাশাপাশি তার আদর্শ নিজেদের মধ্যে ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে জানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তথ্যউপাত্ত জানা বা তার সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক অবস্থান উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে। তার আদর্শ নিজের মধ্যে প্রতিফলিত করার প্রয়োজন রয়েছে।”

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৫৩ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৫০
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৫৩ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৫০

বঙ্গবন্ধুকে জানার পাশাপাশি তার আদর্শ উপলব্ধি করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুকে জানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তথ্যউপাত্ত জানা বা তার সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক অবস্থান উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে। তার আদর্শ নিজের মধ্যে প্রতিফলিত করার প্রয়োজন রয়েছে।”

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজ’ প্রতিযোগিতার ‘শেয়ার করেও জিতুন’ পর্বের ১১তম পর্বে প্রধান অতিথি হয়ে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু সমাজকে কিভাবে দেখতেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন নারী-পুরুষের মধ্যে সমতার বিধান করতে হবে, তাদেরকে সমান অধিকার দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার পাবে। তিনি ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে আমরা এই বিষয়গুলো ধারণ করতে পারি। নিপীড়িত মানুষ, শোষিত মানুষ যারা অধিকারহারা, অর্থনৈতিক মুক্তি- সেই মুক্তির জন্য তিনি সমাজকে কিভাবে গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের মধ্যে ন্যায়-ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে আমরা তার আদর্শকেও ধারণ করি, শুধুমাত্র তথ্যউপাত্ত নয়, আদর্শটিকেও উপলব্ধি করে যদি সেইভাবে করে নিজের জীবন পরিচালিত করি তাহলে কিন্তু আমাদের সমাজের যে উন্নয়ন তা টেকসই হবে।”

বর্তমান সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন হচ্ছে এর ফলে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, “এই উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক, মানবিক, টেকসই জীবনযাপনে নজর রাখতে হবে।”

এবারের পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টি এম এ কাশেম। লাইভটি পরিচালনা করেন প্রিয়.কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন।

বঙ্গবন্ধু রাজনীতিবিদ হলেও তিনি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন। উনি ’৫৪ সনে ‘আমার দেখা নয়াচীন’ লিখেছেন, নয়া চীন ভিজিট করেছেন। তখন থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে, কি রকম আধুনিক হবে, গ্রামের মানুষের সঙ্গে, কৃষকের সঙ্গেও কিভাবে যাবে সেভাবেও চিন্তা করেছেন। উনি যখন আমাদের জাতির পিতা হয়ে দেশে ফিরে আসলেন, এই দেশকে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক দেশ তৈরি করলেন। তিনি সব কিছুই টেকনোলজির মাধ্যমে ভালোভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।”

“বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে টেকনোলজির সূচনা করেছেন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যেম এবং আইটিও সদস্যপদ তিনি নিয়েছেন। এই আইটিও সদস্যপদের কারণে এখন আমরা টেকনোলজিতে অনেকদূর এগিয়ে যাচ্ছি। উনি যদি থাকতেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনেক আগেই হয়ে যেত, পরমাণু গবেষণা এগিয়ে যেত।”, যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টি এম এ কাশেম প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় ঘটেছে এমন ‍কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

এদিকে প্রিয়.কমের সিইও জাকারিয়া স্বপন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ফেসবুক এবং ইউটিউবে দেড় কোটি মানুষ মুজিব কুইজ সংক্রান্ত বিষয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষ এই কুইজে অংশ নিয়েছেন। কুইজগুলো প্রায় ৬৭ লাখ বার খেলা হয়েছে।

৫০ হাজার ৯৯১ জন মানুষ ৭৬ হাজার ২৮৮ বার মুজিব কুইজ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করে ‘শেয়ার করেও জিতুন’ এবারের পর্বে অংশ নেন। এদের মধ্যে ৭ জন লটারির মাধ্যমে বিজয়ী হন। তারা হলেন- দিনাজপুর থেকে হানিফ সরকার, ফেনী থেকে রেজাউল করিম, সিলেট থেকে শতরূপা দাস বন্যা, সাতক্ষীরা থেকে রাশেদুজ্জামান, গাজীপুর থেকে রাসেল মিয়া, ঢাকা থেকে জেসমিন আখতার মারিয়া ও পটুয়াখালী থেকে জাকারিয়া।

একই অনুষ্ঠানে আরও ৭ জনকে বিজয়ী করা হয়, যারা মুজিব কুইজে অংশ নেওয়ার জন্য নানা মাধ্যম ব্যবহার করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তারা হলেন- রাজশাহীর তরুণ দত্ত, ঢাকার মাজহারুল ইসলাম, চট্টগ্রামের রাকিব উদ্দিন মাহীম, পাবনার তানিয়া সুলতানা, ঢাকার মোহাম্মদ মানিক হাওলাদার, জামালপুরের শামীম আখতার ও চট্টগ্রামের সাদিয়া মুনা।

প্রসঙ্গত, প্রতিদিনের কুইজের বিজয়ীর পাশাপাশি কুইজটি যারা ফেসবুকে শেয়ার (https://quiz.priyo.com/share-n-win/) করছেন, তাদেরকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শেষে লটারি করে ৭ জন বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। যারা প্রতিদিনের কুইজ বা কুইজ সংশ্লিষ্ট যেকোনো কিছু ফেসবুকে শেয়ার করবেন, তাদেরকে নিয়েই সপ্তাহ শেষে এ লটারি হয়। এছাড়া ৮ম পর্বে প্রিয়.কমের সিইও ঘোষণা দেন, যারা মুজিব কুইজে অংশ নেওয়ার জন্য নানা মাধ্যম ব্যবহার করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন তাদের মধ্য থেকেও ৭জনকে পুরস্কৃত করা হবে। সেই অনুযায়ী  ৯ম পর্বে বাড়তি ৭ জনসহ মোট ১৪ জনকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বিজয়ীদের জন্য থাকে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় উপহার। 

কুইজে অংশ নিতে https://mujib100.gov.bd অথবা https://quiz.priyo.com ওয়েবসাইট অথবা প্রিয় অ্যাপ (ডাউনলোড লিংক https://dl.priyo.com) এর যেকোনো একটি মাধ্যমে নিবন্ধন করে অংশ নিতে হবে। একজন প্রতিযোগী একটি আইডি দিয়ে প্রতিটি কুইজে একবার অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যেক প্রতিযোগীকে নাম, ঠিকানা, ছবি, ফোন নাম্বার, ইমেইল/সোশ্যাল মিডিয়া আইডি ব্যবহার করতে হবে, যা বিজয়ীদের ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে যাচাই করা হবে। একজন প্রতিযোগীকে একবার নিবন্ধন করলেই চলবে। পূর্বে নিবন্ধন করে থাকলে নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। ভুল তথ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করলে তাকে পরবর্তীতে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে।

প্রতিযোগিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্ন থাকছে। প্রতিদিন একটি নতুন কুইজ দেওয়া হয় এবং কুইজের মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা (০০:০১ মিনিট হতে ২৩:৫৯ মিনিট পর্যন্ত)। প্রতিদিন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে ১০০ জন বিজয়ীর সবাই পাবেন ১০০ জিবি করে মোবাইল ডাটা এবং তাদের মধ্যে প্রথম ৫ জন পাবেন স্মার্টফোন।

এ ছাড়া পুরো প্রতিযোগিতায় গ্রান্ড প্রাইজ হিসেবে থাকবে মোট ১০০টি ল্যাপটপ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। সহায়তা করছে- শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

কুইজটির স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার- তথ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। আর এটির বাস্তবায়ন সহযোগী প্রিয়.কম। এছাড়াও এ আয়োজনে সার্বিকভাবে আছে দারাজ বাংলাদেশ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড গ্রুপ ও টেলিটক বাংলাদেশ।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...