প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কুইজে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কারণে: তথ্যমন্ত্রী

৪৪ হাজার ৭০০ জন বঙ্গবন্ধু কুইজ সংক্রান্ত পোস্ট এক লাখ ৬৩ হাজার ৩১০ বার শেয়ার করে ‘শেয়ার করেও জিতুন’ এবারের পর্বে অংশ নেন। এ নিয়ে আয়োজিত লাইভ লটারি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিজয়ীদের সারপ্রাইজ কল দেওয়ার পাশাপাশি তিনি কথা বলেছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:৪৯ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৪১
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:৪৯ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৪১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন এই অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায়। আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও যে কুইজে অংশগ্রহণের অবারিত সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে, এটি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজের ‘শেয়ার করেও জিতুন’ লাইভ লটারির ১২তম পর্বে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানটি সরাসরি লাইভ হয় প্রিয়.কমের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজের ‘শেয়ার করেও জিতুন’ লাইভ লটারিতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিজয়ী হয়েছেন ৭ জন। লাইভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সরাসরি বিজয়ীদের ফোন দেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিনন্দন বার্তা জানান।

এই কুইজের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের তরুণ-তরুণীরাসহ সবাই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী  বলেন, কুইজের বিজয়ীদের অবস্থান দেখেই বোঝা যায় চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত সব জায়গা থেকেই প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করছে। যে সমস্ত স্থান থেকে তারা অংশগ্রহণ করেছে পুরো দেশ মোটামুটি কভার হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এভাবে অংশগ্রহণ করার যে সুযোগ অবারিত হয়েছে, এটি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই হয়েছে। বিজয়ীরা হয়তো অনেকে জানে না, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন ৫০ লাখ মানুষ সর্বসাকুল্যে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। আর এখন ১১ কোটির বেশি। এটি সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে।

প্রতিযোগীদের বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত বিভিন্ন বই পড়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার। কিন্তু তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধুকে সেই সময় যদি হত্যা না করা হতো তাহলে কয়েক দশক আগেই আমাদের দেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে অনেক আগেই উন্নত দেশ হতে পারতো।’

তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন মানবিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, আমরা দেশে একটি সামজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ একটি দেশ উন্নত হবে, আর উন্নত হওয়ার পর ছেলে-মেয়েরা বড় হওয়ার পর বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেবে এমন রাষ্ট্র চাই না।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রিয়.কমের প্রধান নির্বাহী জাকারিয়া স্বপন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অংশগ্রহণকারী নিয়ে, এত দিন সময় নিয়ে এত বড় কুইজ কখনো হয়নি উল্লেখ করে জাকারিয়া স্বপন জানান, গত ৮০ দিনে এই কুইজে দেড় কোটি মানুষ সংযুক্ত হয়েছেন। ১৫ লাখের বেশি মানুষ কুইজের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং সাত লাখের বেশি মানুষ ৮০ লাখবার কুইজটি খেলেছেন।

৪৪ হাজার ৭০০ জন মানুষ এক লাখ ৬৩ হাজার ৩১০ বার বঙ্গবন্ধু কুইজ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করে ‘শেয়ার করেও জিতুন’ এবারের পর্বে অংশ নেন। এদের মধ্যে ৭ জন লটারির মাধ্যমে বিজয়ী হন। তারা হলেন বগুড়ার সাতগ্রাম থেকে রাজু, ঢাকার বনানী থেকে আলমগীর মিয়া, রাজশাহীর রাজপারা আব্দুল্লাহ আল আমিন, লক্ষীপুর থেকে মোবারক হোসেন, গাজীপুর থেকে ফজলুল করিম, শেরপুর থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসি রিমা এবং চট্টগ্রাম থেকে জুয়েল চন্দ্র নাথ।

একই অনুষ্ঠানে আরও ৭ জনকে বিজয়ী করা হয়, যারা মুজিব কুইজে অংশ নেওয়ার জন্য নানা মাধ্যম ব্যবহার করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তারা হলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে এমদাদুল হক মিলন, ঢাকার সূত্রাপুর থেকে মরিয়ম আক্তার, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে মো. আব্দুস সাত্তার আকন্দ, গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে মো. রাঙ্গা, চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে শেখ সাদী, বগুড়া সদর থেকে নুসরাত জাহান এবং নীলফামারীর ডিমলা থেকে সাইফুর রহমান।

প্রসঙ্গত, প্রতিদিনের কুইজে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি কুইজটি যারা ফেসবুকে শেয়ার (https://quiz.priyo.com/share-n-win/) করছেন, তাদেরকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শেষে লটারি করে ৭ জন বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। এ ছাড়া যারা বঙ্গবন্ধু কুইজে অংশ নেওয়ার জন্য নানা মাধ্যম ব্যবহার করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন তাদের মধ্য থেকেও ৭ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। বিজয়ীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

কুইজে অংশ নিতে https://mujib100.gov.bd অথবা https://quiz.priyo.com ওয়েবসাইট অথবা প্রিয় অ্যাপ (ডাউনলোড লিংক https://dl.priyo.com) এর যেকোনো একটি মাধ্যমে নিবন্ধন করে অংশ নিতে হবে। একজন প্রতিযোগী একটি আইডি দিয়ে প্রতিটি কুইজে একবার অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যেক প্রতিযোগীকে নাম, ঠিকানা, ছবি, ফোন নম্বর, ইমেইল/সোশ্যাল মিডিয়া আইডি ব্যবহার করতে হবে, যা বিজয়ীদের ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে যাচাই করা হবে। একজন প্রতিযোগীকে একবার নিবন্ধন করলেই চলবে। পূর্বে নিবন্ধন করে থাকলে নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। ভুল তথ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করলে তাকে পরবর্তীতে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে।

প্রতিযোগিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্ন থাকছে। প্রতিদিন একটি নতুন কুইজ দেওয়া হয় এবং কুইজের মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা (০০:০১ মিনিট হতে ২৩:৫৯ মিনিট পর্যন্ত)। প্রতিদিন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে ১০০ জন বিজয়ীর সবাই পাবেন ১০০ জিবি করে মোবাইল ডাটা এবং তাদের মধ্যে প্রথম ৫ জন পাবেন স্মার্টফোন।

এ ছাড়া পুরো প্রতিযোগিতায় গ্রান্ড প্রাইজ হিসেবে থাকবে মোট ১০০টি ল্যাপটপ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। সহায়তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

কুইজটির স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। আর এটির বাস্তবায়ন সহযোগী প্রিয়.কম। এ আয়োজনে সার্বিকভাবে রয়েছে দারাজ বাংলাদেশ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড গ্রুপ ও টেলিটক বাংলাদেশ।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...