ছবি সংগৃহীত

জুরি বোর্ডে যারা থাকেন তারা ফিল্ম কি জিনিস সেটা বোঝেন না: মোরশেদুল ইসলাম

নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম এবার ‘অনিল বাগচীর একদিন’ ছবিটির জন্য যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র অধিশাখা থেকে ২০১৫ সালের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৭, ১৬:৫১ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০১:১৬
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৭, ১৬:৫১ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০১:১৬


ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নির্মাতা হিসেবে মোরশেদুল ইসলামের ঝুলিতে রয়েছে ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘খেলাঘর’ ‘আগামী’র মত চলচ্চিত্র। এদিকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র অধিশাখা থেকে ২০১৫ সালের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘অনিল বাগচীর একদিন’ ছবিটিও। ছবিটির জন্য যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন মোরশেদুল ইসলাম। আজ দুপুরে প্রিয়.কমের সঙ্গে পুরস্কার ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রিয়.কম: শুরুতেই অভিনন্দন জানাচ্ছি...

মোরশেদুল ইসলাম: আপনাকে এবং প্রিয়.কম’কে ধন্যবাদ।

প্রিয়.কম: ‘অনিল বাগচীর একদিন’ ছবিটি তো এককভাবেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে, তারপরও যৌথভাবে পেল। নির্মাতা হিসেবে আপনার কী মনে হচ্ছে?

মোরশেদুল ইসলাম: কেন যৌথভাবে পেল, সেটি তো আর আমি বলতে পারব না। তবে ভেতরের খবর আমি যতটুকু জানি, প্রথমে ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকাতেও অন্তভুক্ত ছিল না! পরে মন্ত্রিপরিষদ কমিটি আমার ছবিটি অন্তভুক্ত করেছে। একটা বিষয় কী, আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিষয়টি কেন জানি দিন দিন বাজে অবস্থার দিকে যাচ্ছে! তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকেই কথাটি বলছি-বেশিরভাগ সময় জুরি বোর্ডে যারা থাকেন তারা ফিল্ম কি জিনিস সেটা বোঝেন না। তাই এসব নিয়ে আমার খুব একটা আক্ষেপ নেই।

প্রিয়.কম: আপনিও তো দুইবার জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন?

মোরশেদুল ইসলাম: হুমম। সে সময়গুলোতে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে। তখন আমি দেখেছি, অনেকেই ফিল্ম কি জিনিস তারা সেটি বোঝেন না। সম্পাদনা কী তাও জানেন না, বা আর্ট ডিরেকশন কি জিনিস সেটিও তারা বুঝেন না। এই হলো ভেতরের অবস্থা। আপনিও বিষয়টা জানেন, আমাদের তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ কান ফ্যাস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় নি। সেসময় অন্য আরেকটি কমার্শিয়াল ছবিকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। আমি বলছি না কমার্শিয়াল ছবিকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। এই হচ্ছে আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কাররের সার্বিক চিত্র।

প্রিয়.কম: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন জুরিবোর্ডের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ?

মোরশেদুল ইসলাম: কি বলবো, বলেন? আমাদের এখানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ড কাদের নিয়ে গঠন করবে? সেরকম কিংবা সে মাপের লোকও কম। জানি না মিনিস্ট্রিতে কি ধরনের লবিং চলে। এরমধ্যে সিনিয়র অভিনয়শিল্পী একজন আছেন, যিনি প্রতিবারই জুরি বোর্ডের মেম্বার থাকেন। তার সাথে আমার গতবার কথা কাটাকাটি হয়েছে। দেখলাম, উনি ছবি বোঝেনই না। আমার ধারণা, কথা কাটাকাটির রেশ হয়তো এবার আমার ছবির (অনিল বাগচীর একদিন) উপরে পড়েছে। এগুলো হয়। আমরা সঠিকভাবে বিচার করতে পারি না। কিন্তু বলে আর কি হবে?

প্রিয়.কম: আপনার সিনেমাটি কি অন্যান্য শাখায়ও পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না...

মোরশেদুল ইসলাম: আমার ছবির মূল চরিত্র ‘অনিল’। সে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছে আরেফ সৈয়দ। বেশ ভালো অভিনয় করেছে। তাকে অ্যাওয়ার্ড না দিয়ে দেওয়া হয়েছে কমার্শিয়াল ছবির একজন অভিনেতাকে। আমি বলছি না কমার্শিয়াল ছবি অ্যাওয়ার্ড পাবে না। বিষয়টা হলো- অভিনয়ের জায়গা দেখে অ্যাওয়ার্ডটা দেওয়া উচিত ছিল। আরেফ এতো ন্যাচারাল অভিনয় করল, কিন্তু তাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো না। এর চেয়ে বড় অন্যায় কি হতে পারে?

প্রিয়.কম: তাহলে সীমাবদ্ধতাটা কোথায়?

মোরশেদুল ইসলাম: সরকারেরও তো একটা সীমাদ্ধতা আছেই। তারা কিছু যোগ্য লোকদের একত্র করে একটি জুরি বোর্ড গঠন করে দেয়। সে লোকগুলো যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেখানে তাদের আর কি-ই বা করার থাকে। সরকার আর কতক্ষণ বিষয়গুলোর দিকে নজরে রাখবে? জুরি বোর্ডের যারা আছেন তাদের নামগুলো দেখলে মনে হবে বেশ ভালো। কিন্তু এ ভালো লোকগুলো তো ছবি বোঝে না।

প্রিয়.কম: পুরস্কার পাওয়ার পর দায়িত্ববোধের পারদের তাপমাত্রা নিশ্চয়ই অনুভব করছেন ?

মোরশেদুল ইসলাম: সেটি তো অবশ্যই। সে কারণে এসব নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এসব নিয়ে অতো ভাবছিও না। আরও ভালো ছবি কিভাবে নির্মাণ করা যায় সেটি নিয়ে এখন পরিকল্পনা করছি। তবে খারাপ লাগার একটি বিষয় তো কাজ করেই। এছাড়া আর কিছু নয়। 

প্রিয়.কম: প্রায় প্রতিবছরই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক থাকে, এবারও রয়েছে...

মোরশেদুল ইসলাম: যেমন ধরেন ‘জালালের গল্প’ ছবিটাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে মেকআপের জন্য। তাহলে কী ছবিটাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলো? এইটা কিন্তু একটা ভালো ছবি ছিল। আমাদের দেশের দর্শকের কাছে এবং আন্তজার্তিকভাবে ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু এই ছবিটার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

প্রিয়.কম: আপনার নির্মাণের প্রসঙ্গে আসি, ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’ ছবিটির কি খবর?

মোরশেদুল ইসলাম: ছবিটির কাজ শেষ। এখন সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তি দিতে পারব।

প্রিয়.কম: অনেক দিন ধরেই তো আপনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক চিন্তাধারারেই পরিবর্তন হয়েছে?

মোরশেদুল ইসলাম: আমি তো বিভিন্ন ধরনের ছবি বানাই। কখনও ছোটদের জন্য, কখনও বড়দের জন্য। যেহেতু আমি বৈচিত্র পছন্দ করি, সেহেতু ছবির মেকিংয়ের ধরনেও প্রতি মুহূর্তে আমার পরিবর্তন ঘটছে।

প্রিয়.কম: প্রিয়কে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

মোরশেদুল ইসলাম: প্রিয়কেও ধন্যবাদ।

সম্পাদনা: গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...