মাগুরায় ছাত্রী হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রলীগের নিপীড়ন

মানবজমিন প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৯

মাগুরা সরকারি হোসেন সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রীদের হোস্টেলে ঢুকে তাদের নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ রোববার রাতে বিনা অনুমতিতে কয়েকজন হোস্টেলে ঢুকে  মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, ধাক্কাধাক্কি, রান্না করতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হোস্টেলের দায়িত্বরত মেট্রনকে সাময়িক বহিষ্কারসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।কলেজের আবাসিক ছাত্রীরা জানান, অনেকদিন ধরেই ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীরা হোস্টেলে ঢুকে নিপীড়ন করছে। কলেজ প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানালেও তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা  নেয়নি।কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষের কাছে সোমবার সকালে কয়েকজন ছাত্রী রোববারের ঘটনায় অভিযোগ করেন। ছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন নির্বিঘেœ মেয়েদের হোস্টেলে যাতায়াত করছেন। তাদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন অনেক ছাত্রী।রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাওয়া শেষ করে অন্য মেয়েদের সঙ্গে রুমে ফেরার সময় দেখি,  হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি একটি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। মেয়েটি নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ও কাঁদছে। একটু দূরে তিন-চারজন ছেলে দাঁড়িয়ে। এ সময় আমরা  মেয়েটিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ছেলেরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে  ফেলে দেয়।সিঁড়ির রেলিংয়ে পড়ে এক মেয়ের হাত কেটে ও জামা ছিঁড়ে যায়। আহত ছাত্রী জানান, বিষয়টি হোস্টেলের মেট্রন (তদারকির দায়িত্ব থাকা) নাসরিন আক্তারকে জানানো হলেও তিনি চুপ থাকার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর হোস্টেলে পুলিশ এলেও নাসরিন ম্যাডামের ভয়ে কেউ  কোনো অভিযোগ করেনি।বিষয়টি নিয়ে হোস্টেল মেট্রন নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, সেদিন কলেজ ছাত্রলীগের পরিচয়ে বেশ কয়েকজন পোলাও-এর চাল ও মুরগি নিয়ে  হোস্টেলে আসে। তারা রাঁধুনি রাজিয়াকে ১৫ জনের খাবার রান্না করে দিতে বলে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০-১৫ জনসহ ছাত্রলীগ সভাপতি রাব্বি এসে খাবার নিয়ে চলে যায়।এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বির মোবাইল  ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলি হোসেন মুক্তা বলেন, ছাত্রীদের এ অভিযোগ সত্য নয়। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন  জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল।কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে  হোস্টেলের মেট্রন নাসরিন আক্তার, নৈশপ্রহরী আবদুস সালাম ও রাঁধুনি রাজিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও