ঈদের সব জামাত মসজিদে

বাংলা ট্রিবিউন প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০, ০০:২১

করোনা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঈদ জামাতেও। স্বাভাবিক সময়ে ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এবার দেশের কোথাও ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। জামাতের আয়োজন করা হবে মসজিদে। নামাজ শেষে হাত মিলিয়ে মুসল্লিদের কোলাকুলিও হবে না। ধর্ম মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের জামাত মসজিদে আদায়ের এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণের আহবান জানিয়েছেন আলেমরাও।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত আদায় প্রসঙ্গে ১৪ মে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্যও অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতের আয়োজন হয় কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। করোনাভাইরাসের কারণে লাখ-লাখ মুসল্লি নিজেদের প্রিয় ঈদগাহে এবার নামাজ পড়তে পারবেন না। ঈদগাহের গ্র্যান্ড খতিব আল্লামা ফরীদউদ্দিন মাসঊদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে সারা মানবজাতি লড়াই করছে। আল্লাহর রহমতে এবারের ঈদে সারা মুসলিম জাহানের মানুষ এরথেকে মুক্তি পেতে দোয়া করবে। তবে, এবার আমাদের শোলাকিয়া ঈদগাহসহ দেশের অন্য ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া যাবে না, নামাজ আদায় করতে হবে মসজিদে।’

নিজের মুসল্লিদের উদ্দেশে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ’র অন্যতম সদস্য মাওলানা মাসঊদ বলেন, ‘শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ পড়তে প্রতি ঈদে লাখ-লাখ মুসল্লি আসতেন। এবার সে সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদগাহে নামাজ বাতিল করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব মুসল্লিরা আসতেন, তারা এবার নিজেদের স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়বেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আমি সব মুসল্লিদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করুন, এই মহামারি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করুন।’

বিগত বছরগুলোতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতো। ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই শুরু হতো কাজ। তবে এবার সেই প্রস্তুতি নেই জাতীয় ঈদগাহে। এই ঈদগাহের জামাতে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী-সচিবসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিসহ সাধারণ মানুষ অংশ নিতেন। তবে এবার তা হচ্ছে না। এর বিপরীতে প্রতি বছরের মতো বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০ টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত জামাতে মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য বিবেচনা করে ঈদ জামাত নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য বলা হয়েছে। জায়গা না হলে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও