উপনির্বাচনে প্রার্থী চাপে আওয়ামী লীগ

মানবজমিন প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২১, ০০:০০

উপনির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে চাপে আওয়ামী লীগ। অতীতে এ ধরনের চাপে পড়তে হয়নি দলটিকে। শূন্য হওয়া তিন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান আওয়ামী লীগের ৯৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। অর্থাৎ একটি আসনের বিপরীতে ৩২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা ১৪, সিলেট ৩ এবং কুমিল্লা ৫। আগামী ১৪ই জুলাই শূন্য হওয়া আসনের উপনির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার এই তিনটি আসনের উপনির্বাচন ১৩ দিন পিছিয়ে ২৮শে জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের শেষদিকে একযোগে ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১৪১ জন। অর্থাৎ এসব আসনের বিপরীতে গড়ে প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন। এর মধ্যে ছিল- ঢাকা-৫ আসনে ২০ জন, ঢাকা-১৮ আসনে সর্বোচ্চ ৫৬ জন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৩ জন, নওগাঁ-৬ আসনে ৩৪ জন, পাবনা-৪ আসনে ২৮ জন। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারণে আওয়ামী লীগের এতো বেশি প্রার্থী বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা বলেন, আসনগুলোতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রার্থীরা মনে করছেন, দল ক্ষমতায়। তাই মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই বিজয় নিশ্চিত। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না শুনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড় বেড়ে গেছে। এবার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। খুব একটা অসুবিধা নেই, এই কথা মনে করে অনেকেই আবার প্রার্থী হচ্ছেন। পায় আর না পায় প্রার্থী হতে চায়। কারণ বিএনপি নেই শুনেছে। মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রীর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণ একটি গাইডলাইন তিনি দিয়েছেন। সেটা হলো ‘আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দিবো। যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং দুঃসময়ে ছিলেন। এমন একটি ধারণা তিনি আমাকে দিয়েছেন। এখানে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকবে। তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবেও রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে। নেত্রীরও নিজস্ব একটি টিম আছে। সেই টিম দিয়ে তিনি মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আশা করি, আমরা যথাযথ ব্যক্তিকে মনোনয়নটা দিতে পারবো। প্রায় একই সুরে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি না থাকায় প্রার্থীরা উপনির্বাচনকে সুযোগ বলে মনে করছেন। তাদেরকে ঘরে ঘরে ভোট চাইতে যেতে হবে না, পরিশ্রমও কম হবে। মনোনয়ন পেলেই জিতবেন- এমন আশা তাদের। এ কারণে এবার প্রার্থীর সংখ্যা একটু বেশি। এদিকে দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আজ গণভবনে সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনে মনোনয়ন পেতে চান স্থানীয় পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা, কেন্দ্রীয় নেতা, প্রয়াত তিন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্য, আমলা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, প্রবাসীসহ সবাই। এমনকি এমপি হতে বিএনপির দুজন সাবেক নেতাও মনোনয়ন নিতে এসে ফিরে গেছেন। এই দুই নেতা হলেন- এখলাস উদ্দিন মোল্লা ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল। আওয়ামী লীগের দপ্তর সেল জানিয়েছে, গত ৪ঠা জুন থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত ৭ দিন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ করে আওয়ামী লীগ। একই সময়ে জমাও নেয়া হয়। সাত দিনে এই তিনটি আসনের বিপরীতে ৯৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। তিন আসনের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ৩৪ জন। এছাড়া কুমিল্লা-৫ আসনে ৩৫ জন এবং সিলেট-৩ আসনে ২৫ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনবারের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলামের মৃত্যুর কারণে ঢাকা-১৪ আসন শূন্য হয়। পাঁচবারের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ এবং তিনবারের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যাওয়ায় সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়। শূন্য হওয়া এই তিনটি সংসদীয় আসনই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত

হাবিবের চমক

১১ ঘণ্টা, ৩৯ মিনিট আগে