যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে পদত্যাগের ঘটনা

দৈনিক সিলেট প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৯, ১০:০০

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : নজীরবিহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন নির্বাহী সদস্য আজহারুল ইসলাম লিটন। ৭ জুলাই রোববার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যকরী কমিটির সভায় হাই কমান্ডের দোহাই দিয়ে সংগঠনের হরিবল অবস্থা তৈরী এবং নেতা-কর্মীদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে। 'প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির অনুমতি নিতে হয়। এরপর ঐসব পদে অন্তর্ভুক্তি অথবা মনোনয়নের পথ সুগম হয়। কিন্তু ড. সিদ্দিকুর সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ৪০ থেকে ৪৫ জনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। অর্থাৎ যারা তাকে অন্ধভাবে সমর্থন দেন তাদেরকেই নতুন পদে (?) অধিষ্ঠিত করার টোপ দেয়া হয়। যদিও পদপ্রাপ্ত(?)দের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি'-এমন অভিযোগ রয়েছে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। উল্লেখ্য, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে দুই বছরের অধিক সময় আগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের পর এই শুন্য পদটিন পূরণের চেষ্টা না করে কেন নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই নেতা-কর্মীর মধ্যে। জুনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কার্যকরী কমিটির উপরোক্ত সভায় মোট সদস্যের সিংহভাগই অনুপস্থিত ছিলেন। সেটি পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। সে সময় পালকির ওপর তলায় খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টে ছিলেন কথিত নতুন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত (?)দের অনেকে। আশায় ছিলেন যে, সভায় ডেকে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু আজহারুল ইসলাম লিটনের পদত্যাগের ঘোষণায় কিছুটা বিব্রত সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান শেষ লগ্নে তাদেরকে সভায় ডেকে নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেননি। তিনি সে সময় সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, নতুন পদে কে কে রয়েছেন তা ইতিমধ্যেই নানা মাধ্যমে জানাজানি হয়েছে। সুতরাং তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আমি ঢাকায় যাচ্ছি সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্যে। ফিরলেই আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, এই কমিটির আরেক নির্বাহী সদস্য শরিফ কামরুল হীরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতির তথ্য জানার পর আগের সপ্তাহেই এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, 'অনিয়মের মধ্যদিয়ে তৈরী পদে আমি অধিষ্ঠিত হতে চাই না। আমি চাই, জননেত্রীর উপস্থিতিতে কাউন্সিলের ভিত্তিতে নতুন কমিটি। কারণ, বর্তমান কমিটির মেয়াদ চার বছর আগেই শেষ হয়েছে।' কার্যকরী কমিটির এ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামনের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে ব্যাপক সংবর্ধনা জানানো হবে। এছাড়া, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ইতিপূর্বে ঘোষিত টাইমস স্কোয়ারের সমাবেশকে সাফল্যমন্ডিত করতে এখন থেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তৎপরতা চালানোর আহবান জানানো হয়। লিটনের পদত্যাগের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. সিদ্দিকুর বলেছেন, আমি সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই। দলাদলি-বিভেদ চাই না। এর আগে এ সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় সংগঠনের সাবেক এক সহ-সভাপতির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উৎযাপন উপলক্ষে ৫০১সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে আগমন উপলক্ষে প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে আরো বিশদ আলোচনা করা হবে। ষ্টেট আওয়ামী লীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পদত্যাগের ঘোষণাকারি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য আজহারুল ইসলাম লিটন এ সংবাদদাতাকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সাংগঠনিক অনিয়ম চালাচ্ছেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এরফলে প্রবাসে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনই শুধু নয় এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও বিবাদ-বিভক্তি তৈরী হয়েছে। এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। লিটন উল্লেখ করেন, গতবছর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা সমাবেশে লাগাতার স্লোগান উঠেছিল, 'নো মোর সিদ্দিক'। এবার আশা করা হচ্ছে, মাঠের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে অর্থাৎ যোগ্য নেতৃত্বে নতুন কমিটি হবে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও