প্রতীকী ছবি

উবার, পাঠাওসহ অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং নিরাপত্তায় যা জানা জরুরি

গতকাল এক রাইড অ্যাপ ব্যবহারকারী এয়ারপোর্ট রোডের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ফারজানা মাহাবুবা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৮, ২০:৪৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:৩২
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৮, ২০:৪৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:৩২


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) শহরের অসহনীয় যানজট ঠেলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে মোটরবাইক ব্যবহারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে।

অ্যাপভিত্তিক হওয়ায় একদিকে যেমন দর কষাকষির ঝক্কি নেই, তেমনি বিভিন্ন অফারের আওতায় তুলনামূলক কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় বলে তরুণ সমাজে নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে এই অ্যাপগুলো। আর সে কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাধীন মোটরসাইকেলের সংখ্যাও বাড়ছে সমান তালে। তবে সম্প্রতি কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে এই মোটরবাইক ব্যবহারের নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি।

৪ জুলাই এক রাইড অ্যাপ ব্যবহারকারী এয়ারপোর্ট রোডের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। সম্প্রতি মোটর রাইড ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাদেদজা সুলতানা আর্নিক।

আর্নিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘অনেকে কোনোরকম বাইক চালাতে পারলেই রাস্তায় নেমে যান। অনেক বেপরোয়াভাবে চালান। আস্তে যেতে বললেও লাভ হয় না। আমি অ্যাক্সিডেন্টের পর রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ করেছি। পরে তারা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না জানি না।’

রাইড ব্যবহারের এই বিরূপ অভিজ্ঞতার ব্যাপারে কোথায় জানাতে হবে, কীভাবে জানাতে হবে এমন বিষয়ে বেশির ভাগেরই কোনো ধারণা নেই।

এসব অ্যাপ ঘেঁটে যাত্রীদের অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় সাহায্যের জন্য কোনো হটলাইন নম্বর পাওয়া যায়নি। এ জন্য যাত্রীরা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যা বুঝিয়ে বলার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে পাঠাওয়ের জনসংযোগ কমকর্তা নাফিউল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সার্ভিসটির ওয়েবসাইটে তাদের হেল্প লাইন নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা কী নীতিমালা মেনে চলছে এমন প্রশ্নে নাফিউল ইসলাম বলেন, ‘চালকদের বৈধ লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের ফিটনেস এবং এটি চালানোর দক্ষতা পরীক্ষার ভিত্তিতে আমরা নিয়োগ দিয়ে থাকি। প্রত্যেককেই হেলমেট ব্যবহার করতে এবং যাত্রীকে হেলমেট সরবরাহ করতে বলা হয়। এ ছাড়া আমাদের বিশেষ টিম জিপিএস ট্র্যাকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাইডারদের নজরে রাখে।’

সরেজমিনে অবশ্য অনেক নীতিমালার কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের রেটিংয়ের ভিত্তিতে রাইডারদের পারফর্ম্যান্স যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান নাফিউল ইসলাম।

নাফিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘কোনো রাইডারের রেটিং বারবার খারাপ আসলে, কেউ পরপর তিন মাস যাত্রীকে হেলমেট না দিলে, আবার রাইডার যে মোটরসাইকেল দেখিয়ে নিবন্ধন করেছে, সেটার পরিবর্তে অন্য কোনো মোটরবাইক ব্যবহার করলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হয়।’

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সানজানা নওরিন প্রায়ই মোটরবাইক রাইডে অফিসে আসেন। বাইকের ফিটনেস, সেইসঙ্গে হেলমেট না দেওয়াসহ তাদের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি।

নওরিন বলেন, ‘কিছু কিছু বাইকের অবস্থা খুবই খারাপ থাকে। আবার রাইডার নিজেরা হেলমেট পরলেও আমাদের জন্য কোনো হেলমেট রাখে না। কেউ যদি রাখেও, সেটার এমনই অবস্থা থাকে যে ওটা আর পরার মতো না। হেলমেট না থাকার কারণে ক্যান্টনমেন্ট রুটও ব্যবহার করতে পারি না আমি।’

এ সময় নওরিন চালকদের দক্ষতাসহ তাদের বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন।

এ বিষয়ে অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ডক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন রাইডগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যে লাইসেন্স ব্যবহার করে, সেটা এইসব অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। কেননা এখানে অনেক পেশাদারি চালক আছেন। তাদের সেই বিশেষায়িত লাইসেন্সের প্রয়োজন। এ ছাড়াও চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেগুলো খতিয়ে দেখাও প্রয়োজন এবং এই দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সরকার সংশ্লিষ্টদেরও উচিত বিষয়গুলো তদারকি করা।’

এ ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সবার আগে দেখে নিতে হবে অ্যাপে যে লাইসেন্স নম্বর দেখানো সেটা বাইকের সঙ্গে মিলছে কি না। চালককে বাইরে থেকে দেখে বা কথা বলে বুঝতে হবে তিনি মোটরবাইক চালানোর অবস্থায় আছেন কি না। বাইকের ফিটনেস ভালো না হলে এবং হেলমেট ছাড়া বাইকে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ।’ প্রয়োজনে চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন তিনি।

সম্প্রতি চালক ও যাত্রীদের বিনামূল্যে বিমা সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উবার। তাদের বিমা নীতি অনুযায়ী, রাইড ব্যবহারের সময় যদি কোনো দুর্ঘটনায় উবার ব্যবহারকারী বা চালক মৃত্যুবরণ করেন, স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেন অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাহলে তাদের এই ফ্রি বিমার সুবিধা দেওয়া হবে।

এই সুবিধার আওতায় দুর্ঘটনায় উবার ব্যবহারকারীর মৃত্যু হলে দুই লাখ টাকা, স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এই বিমা সেবার ব্যাপারে পাঠাও-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রথম এক হাজার চালককে বিমার আওতায় এনেছে। এ ছাড়া যাত্রী ও বাকি চালকদের এর আওতায় আনার কাজ চলছে।

এদিকে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় চালানোর বিষয়টিকে একটি বিধিমালার আওতায় আনতে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালাকে গ্রাহকরা ইতিবাচকভাবে দেখলেও এতে যেন সেবার সহজলভ্যতা এবং ভাড়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখার দাবি জানিয়েছে পাঠাও কর্তৃপক্ষ।

প্রিয় প্রযুক্তি/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...