সিডনিতে বাংলাদেশি উবার চালক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মাতাল যাত্রীর মৃত্যু, বাংলাদেশি উবার চালক অভিযুক্ত

তখন হঠাৎ থমাস গাড়ির পেছনের দরজা খুলে দেন এবং সিডনি শহরের একটি সড়কে লাল সংকেত দেখানো অবস্থায় নেমে যান।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪


সিডনিতে বাংলাদেশি উবার চালক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৩২) নামে বাংলাদেশের এক উবার চালক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুন মাসে নিহত বৃটেনে জন্ম নেওয়া স্যামুয়েল থমাস (৩০) উবারের গাড়ি থেকে নামার পর বাসচাপায় মারা যান। উবার চালক নজরুল দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান এবং থমাস তার পা হারান।

সিডনির আদালত জানায়, থমাস এবং তার দুই বন্ধু একটি পার্টি থেকে মাতাল অবস্থায় উবারের গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা যখন তাদের গন্তব্য থেকে পাঁচ মিনিট দূরে ছিলেন, তখন হঠাৎ থমাস গাড়ির পেছনের দরজা খুলে দেন এবং সিডনি শহরের একটি সড়কে লাল সংকেত দেখানো অবস্থায় নেমে যান।

উবার চালক নজরুল আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘অবহেলায় গাড়ি চালানোর অপরাধে থমাসের মৃত্যু হয়নি। থমাস গাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি লক্ষ্য করেননি।’

আদালতে দেখানো হয় যে ভিডিও ফুটেজ, তাতে দেখা যায় বাসচাপায় থমাসের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাফিক বাতি সবুজ সংকেত হওয়ায় কারণে নজরুল দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান এবং থমাস সড়কে পড়ে যান।

ম্যাজিস্ট্রেট ম্যারি রায়ান বলেন, ‘কোনো পূর্ব সংকেত ছাড়াই থমাস গাড়ির দরজা খুলেছিল। তবে গাড়ি চালকের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’

ম্যাজিস্ট্রেট রায় দেন যে, যাত্রী নামার সময় নজরুল ইসলাম ‘সঠিকভাবে খেয়াল’ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। চালককে অবশ্যই যাত্রীদের উঠা-নামার ক্ষেত্রে যত্নশীল হতে হয় এবং নজরুল তা করেননি।

রায়ান আরও বলেন, ‘এই মৃত্যুর পেছনে একমাত্র ব্যাখ্যা হচ্ছে যে, নজরুল ইসলাম অনেক বেশি ক্লান্ত ছিলেন, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।’

নজরুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আগে তিনি ভেঙে ভেঙে প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলেন। তবে তার ঘুম পর্যাপ্ত ছিল না বলে মনে করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

রায়ান বলেন, দুই মাতাল যাত্রীর ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন না নজরুল।

এবিসি নিউজ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য উবার উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কিত একটি বিবৃতি জারি করে। অর্থাৎ উবারের চালকরা একটানা ১২ ঘণ্টা ড্রাইভিং করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ থেকে ছয় ঘণ্টা অফলাইনে চলে যাবেন বা বিরতিতে চলে যাবেন।

উবারের মুখপাত্র জানান, ‘আমাদের নির্দেশনাগুলো চালকদের মনে করিয়ে দেয় যে, তদ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ড্রাইভিং ঝুঁকির জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হচ্ছে শুধু ঘুম।’

দণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে দুর্ঘটনাটির মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তিনি উবারের চালক হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জানুয়ারিতে নজরুল ইসলামকে দণ্ড দেওয়া হবে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত