বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু

আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাঙা হবে। সেটা ডিনামাইট ব্যবহার বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হতে পারে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩৬ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫২
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩৬ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫২


বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) আদালতের রায়ে অবৈধ বিবেচিত রাজধানীর হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সর্বোচ্চ আদালত ভবন ভাঙার রায় দেওয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিলেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। আদালতের দেওয়া সাত মাস সময়সীমা ১২ এপ্রিল শেষ হয়।

ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ১৬ এপ্রিল, মঙ্গলবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে ১৫ তলা ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেন রাজউক কর্মকর্তারা। ভবন ভাঙার আধুনিক সব যন্ত্রপাতিও রয়েছে তাদের সঙ্গে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান  জানান, ‘এই ভবনের বিভিন্ন তলায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আমরা আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নিতে বলছি। এটা ভবন ভাঙার কাজেরই একটা অংশ। যেহেতু অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান, তাদের অনেক মালামাল, সেগুলো সরাতেও কিছুটা সময় লাগবে। এরপর আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করব।’

বিজিএমইএ ভবনের সামনে পুলিশের অবস্থান। ছবি: ফোকাস বাংলা

মঙ্গলবারের মধ্যে বিজিএমইএ ভবনে থাকা সব প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরিয়ে নিতে বলেছেন রাজউক কর্মকর্তারা। এরপর ভবন ভাঙা শুরু হবে।

কীভাবে এই ভবন ভাঙা হবে জানতে চাইলে অলিউর বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাঙা হবে। সেটা ডিনামাইট ব্যবহার বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হতে পারে।’

১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু জলাশয় ভরাট করে ভবন তুলতে মানা করা হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানান। জমি দেওয়ার সময়ও তিনিই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন শুরুতেই অভিযোগ তুলেছিল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ‌্যমে ওই ভবন তোলা হয়েছে।

মঙ্গলবারের মধ্যে সব মালামাল সরিয়ে ফেলতে বলেছে রাজউক। ছবি: ফোকাস বাংলা

সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা ওই জমি ১৯৯৮ সালে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো যেভাবে বিজিএমইএকে দিয়েছে, তা ছিল বেআইনি।

তখন তারা ভবন থেকে কার্যক্রম সরিয়ে নিতে সময় চায় আদালতের কাছে। গত বছরের আগস্টে সময় দেওয়ার সময় আদালত বিজিএমইএর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিল যে তারা আর সময় বাড়ানোর আবেদন করবে না।

একাধিকবার সময় নিয়েও আদালতের নির্দেশে বিজিএমইএ ব্যর্থ হলে ভবন করার ক্ষেত্রে জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দেখায়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫০ শতাংশ কমমূল্যে উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে ১১০ কাঠা জমি দেওয়া হয়। সে জমির উপরই তৈরি হচ্ছে ১৩তলা বিজিএমইএ ভবন (পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে)। গত ৩ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে ক্যানসারের মতো’ বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয় আদালত। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করলে ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ সেটি খারিজ করে দেন। এ রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস ও পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না বলেও ওই সময় মুচলেকা দেওয়া হয়।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান শেষে উচ্চ আদালতের নতুন করে সময় বৃদ্ধির কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভবনটি ভাঙতে বিজিএমইএকে দেওয়া সময় পার হয়ে যাওয়ার পরই ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।

দেখুন ভিডিও

প্রিয় সংবাদ/রিমন