বজ্রপাত। ফাইল ছবি

বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ৯ উপায়

বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতরে থাকুন।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৪:১৬
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৪:১৬


বজ্রপাত। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ঋতুতে এখন বৈশাখ মাস চলছে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। সময়টা কাল বৈশাখীর। আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি, ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে কয়েক পশলা ঝেঁপে বৃষ্টি, নিঃসন্দেহে রোমান্টিক আর সস্তির। কিন্তু কিন্তু এই স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে আসা বজ্রপাত মাঝে মাঝেই বিপর্যয় সৃষ্টি করে। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ৬৩৫ জন। এর মধ্যে ২০১৬ সালেই নিহত হন ১৪২ জন।

আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বজ্রপাত হয়। তবে এপ্রিল ও মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) মাসে বজ্রপাত তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। আর ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে নয়টি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর:

১. পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিন। ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোন দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারেন।

২. বজ্রপাত হলে উঁচু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ঝড় বৃষ্টির সময়ে এ জায়গা এড়িয়ে চলুন। ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত বেশি হয়। তাই এমন স্থানও এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. জানালা থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতরে থাকুন।

৪. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন।

৫. টিভি-ফ্রিজ থেকে সাবধান। বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।

৬. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করুন। যদি প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্মুখীন হন তবে গাড়ি কোনো গাড়িবারান্দা বা পাকা ছাউনির নিচে নিয়ে যান। এ সময় গাড়ির কাঁচে হাত দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

৭. বৃষ্টির সময় রাস্তায় জল জমাটা আশ্চর্য নয়। তবে বাজ পড়া অব্যাহত থাকলে সে সময় রাস্তায় বের না হওয়াই মঙ্গল। একে তো বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। উপরন্তু কাছাকাছি কোথাও বাজ পড়লে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

৮. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতো বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই হয় তাহলে পা ঢাকা জুতো পড়ে বের হোন। রবারের গাম্বুট এ ক্ষেত্রে সব চেয়ে ভালো কাজ করবে।

৯. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলের সময় আশেপাশে খেয়াল রাখুন। যে দিকে বাজ পড়ার প্রবণতা বেশি সেদিক বর্জন করুন। কেউ আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল