যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

হার্ভার্ডে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক সম্মেলন

সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে বোস্টন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসডিআই) এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুলের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’।

আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৮, ১৪:১২ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০০
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৮, ১৪:১২ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০০


যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘বাংলাদেশ কীভাবে এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন ত্বরান্বিত করতে পারে।’

১২ মে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রেবোস্টনে হার্ভার্ডের লোয়েব হাউস মিলনায়তনে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে এ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে বোস্টন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসডিআই) এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুলের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’। দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ, জেনারেল ইলেকট্রিক, ম্যাক্স গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং এনার্জি প্যাক বাংলাদেশ। সম্মেলনের সমন্বয়ক ইন্টারন্যাশনাল সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইকবাল ইউসুফের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এ সম্মেলন শুরু হয়।

এরপর সেমিনারের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি ভিডিওচিত্র দেখান হার্ভার্ডের ট্রাফটস ফ্লিচার স্কুলের ইনস্টিটিউট ফর বিজনেস ইন দা গ্লোবাল কনটেক্সট-এর ফেলো নিকোলাস সুলিভান।

সম্মেলনের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ফ্রাঙ্ক নেফকি। বাংলাদেশের এক্সপোর্ট, উৎপাদন সক্ষমতা বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরের বিকাশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে কেবল ভিয়েতনামচীনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।’

এরপর শুরু হয় প্যানেল ভিত্তিক আলোচনা। সম্মেলনটিকে ছয়টি প্যানেলে ভাগ করা হয়। প্যানেলগুলো হচ্ছে- প্রতিশ্রুত ব্যাস্টিক অর্থনীতি ও এর সংস্কার, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ ও এর প্রতিশ্রুতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, ব্যবসায় নারী নেতৃত্ব ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার।

প্রতিশ্রুত ব্যাস্টিক অর্থনীতি ও এর সংস্কার বিষয়ক প্যানেলের মূল বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নে নিশ্চিতভাবে সফলতার গন্তব্যে অগ্রসরমাণ বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।’

সম্মেলনে মত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উন্নয়নকে অর্থবহ ও টেকসই করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোন পথ বেছে নিতে পারে তার বিভিন্ন কলা-কৌশল উঠে আসে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহ কীভাবে বাংলাদেশকে কার্যকর সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়গুলোও উঠে আসে।

বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক সম্মেলনে অংশ নেন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি, হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, থিংক ট্যাংক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রিয় সংবাদ/গোরা