ভারী বৃষ্টিপাতে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে পানি জমে যায়। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে জলাবদ্ধতা, বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে।

মাইনুল হাসান জনি
লেখক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৫৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৫৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬


ভারী বৃষ্টিপাতে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে পানি জমে যায়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ভারী বৃষ্টিতে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে। এ ছাড়া বজ্রাঘাতে পুঠিয়াগোদাগাড়ীতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

৩০ এপ্রিল, সোমবার সকালে মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় অনেক ঘর-বাড়ি ও ফসলের খেত। ওই সময় বজ্রাঘাতে মারা যান দুজন।

সোমবার কালবৈশাখী শুরুর পর পুরো মহানগরী বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আবার ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকা নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, কাদিরগঞ্জ, নিউ মার্কেট, উপশহর, দরিখরবোনা, লক্ষ্মীপুর, কাদিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সকালের হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মস্থলমুখী মানুষকে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিপাতের পর সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পানি নেমে যায়। তবে এখনো কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা রয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ছবি: সংগৃহীত

পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী সুলতান জানান, মাত্র পাঁচ মিনিটের ওই ঝড়ে তার এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ঝড়ের পর বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন বেগুনের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কাজ করছিলেন ইয়াকুব আলী (৪০)। ওই সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি নওপাড়া গ্রামের আরজ উদ্দিনের ছেলে।

গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলী আজম তৌহিদ জানান, উপজেলার আইনাপুকুর এলাকায় কৃষক বাবলু মিয়া (৪৫) জমিতে ধান কাটছিলেন। ওই সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। বাবলু ওই গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী আনোয়ারা বেগম জানান, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩০ নটিক্যাল মাইল। সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে ঝড় শুরু হয়। চলে ৮টা ২১ মিনিট পর্যন্ত। ওই সময় বজ্রসহ ভারী বর্ষণ হয়। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর আর বৃষ্টি হয়নি।

কালবৈশাখীতে আম, লিচু ও অন্যান্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, যেসব আমন ধান নুয়ে পড়েছে, সেগুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা জমিতে পানি জমলেও তা নেমে গেছে। আর রোদের প্রখরতা বাড়ায় এসব ধান নষ্ট হবে না। পাশাপাশি যেসব জমিতে পানি জমেছে, সেগুলোতে আউশ ধান রোপণের উপযুক্ত সময় এখন।

এ ছাড়া রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, বাঘা-চারঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে গাছপালা ভেঙে পড়া এবং কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাছ ভেঙে পড়ে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ ছিল কিছু সময়।

প্রিয় সংবাদ/নোমান

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


loading ...