Priyo Tech

(প্রিয় টেক) গ্রাহক চাহিদা লক্ষ্য করে ২৫ শতাংশ বেশি আইপিও বা প্রারম্ভিক শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক। এই ঘোষণার মাত্র একদিন আগেই ফেসবুক তার শেয়ার প্রতি মূল্য ২১% বৃদ্ধি করে $৩৪-$৩৮ করেছে।

ফেসবুক প্রাথমিক পাবলিক শেয়ারের সাথে আরো প্রায় ৮৪ মিলিয়ন শেয়ার যুক্ত করার মাধ্যমে সর্বমোট ৪২১ মিলিয়ন শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিল। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ৩৩৭ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা দিয়েছিল। আইপিও বাড়ানোর ফলে ১৮ বিলিয়ন ডলার বেশি মূলধন সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে বিশ্লেষকেরা প্রতিষ্ঠানটির লাভ জনক হবে কিনা সে ব্যাপারে বেশ সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

মার্কিন কার নির্মাতা জিএম মটোরস ফেসবুকে আর বিজ্ঞাপন দিবে না বলে বিবিসিকে মঙ্গলবার জানিয়েছে। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফোর্ড সামাজিক মাধ্যমকে গ্রাহক আকর্ষণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা বলবত রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটির সদস্য প্রতি বাৎসরিক আয় মাত্র ৫ মার্কিন ডলার এবং মোবাইল ডিভাইস, ফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার থেকে আয় করার চিন্তা ভাবনা করছে।

মুর ইনসাইট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি'র প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক মুরহেড ব্যাপারটা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে মোবাইল ক্ষেত্রটিতে কিন্তু সেখান থেকে বর্তমানে সে কিছুই আয় করছে না। তিনি ফেসবুককে গ্রুপন বা ফোরস্কয়ার ক্রয় করার অথবা এ ধরণের সুবিধা ফেসবুকের সাথে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফেসবুকের শেয়ার মূল্য এবং অধিক শেয়ার বাজারে ছাড়ার কৌশলটি বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই ধারণা করে রেখেছিল। মুরহেড প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরেও বাজারে আসার পর প্রাথমিক অবস্থায় শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন। "এ ধরণের শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রথম দিন মূল্য বৃদ্ধি পায়, তারপর একটু কমে আসে, এবং কয়েক মাসের মধ্যে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসে।"

ফেসবুকের সকল শেয়ার যদি এই মূল্যে বিক্রি হয় তাহলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রারম্ভিক শেয়ার বিক্রির ইতিহাসে তৃতীয় স্থান দখল করে নিবে।

Business Facebook IPO Facebook

(প্রিয় টেক) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো আউটসোর্সিংয়ে জড়িত মুক্ত পেশাজীবীদের (ফ্রিল্যান্সার) নিয়ে বিশেষ আয়োজন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অনলাইনে আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার সবচেয়ে বড় ওয়েবসাইট ওডেস্ক। গত ১৬ মে স্থানীয় হোটেল রেজেন্সিতে ‘কন্ট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে’ নামক এ আয়োজনের প্রথম অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রায় চার শতাধিক ফ্রিল্যান্সার অংশ নেন। এর আগে ভোটের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের মধ্যে নির্বাচিত ঢাকাকে এই আয়োজনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এ ধরনের এটাই প্রথম আয়োজন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ওডেস্কের মার্কেটপ্লেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট কুপার ও কন্ট্রাক্টর (আন্তর্জাতিক বিপণন) মনিকা চুয়া। অনুষ্ঠানে ওডেস্কের দুই প্রতিনিধি ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া ওডেস্কে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ঘণ্টা কাজ করা সেরা কয়েকজনকে সনদ দেওয়া হয়।

এর আগে ওডেস্ক বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সারকে এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। নিবন্ধিত ফরমটি পূরণ করার পর স্বয়ংক্রিয় একটি প্রবেশপত্র নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ফ্রিল্যান্সারা।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ফ্রিল্যান্সার জানান, 'এই আয়োজন দেশের জন্য একটি অনেক সন্মানের একটি আয়োজন। এই আয়োজনের ফলে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা এক হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মিলন মেলার ফলে তারা সেরা ফ্রিলান্সারদের থেকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে পেরেছেন। এককথায় এটি ছিল বাংলাদেশের ওডেস্ক ফ্রিল্যান্সারদের একটি অনেক কাঙ্ক্ষিত অসাধারণ মিলন মেলা।'

১৭ মে ঢাকার পাশাপাশি ওডেস্কের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন, ফিলিপাইনের ইলিগান ও ম্যানিলায়। ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত শহরগুলোতে এ আয়োজন হবে এবং এর বাইরে অন্য শহরগুলোতে অনলাইনে বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানিয়েছে ওডেস্ক।

Local freelancing oDesk

(প্রিয় টেক) যুক্তরাষ্ট্রের ৪র্থ সর্ববৃহৎ মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল নতুন করে আরও ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে ১ হাজার ৯০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

মূলত নেটওয়ার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের বিনিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে আনতে চাইছে। নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর এ কারণেই টি-মোবাইল তাদের সাতটি কল সেন্টার বন্ধ করে দেয় তারা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কমবেশি ৩৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ৫% খরচ কমিয়ে আনে প্রতিষ্ঠানটি।

আর এই বৃহদাকারের ছাঁটাইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানটি বলেছিলো আগামীতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কল সেন্টারগুলোতে সরাসরি ৩ হাজার ৩০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছিলো।

তবে ছাঁটাইয়ের সময় বলা হয়েছিলো এসব কর্মীদের জন্য আগামীতে আরও ১৭টি কল সেন্টারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

Business Telecom job cut T-Mobile

(প্রিয় টেক) যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের করদাতাদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে অনলাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতি। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)-এর রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এর ফলে করদাতাদের হয়রানি কমবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)- কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৬ মে ই-পেমেন্ট পদ্ধতির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। কর পরিশোধে নতুন পদ্ধতি ই-পেমেন্টের পরিচিতি করণ সভায় এনবিআর সদস্য (কর আপিল ও অব্যাহতি) মোঃ. বশিরউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

আগামী বাজেটে নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন পাস ও অর্থ বিলে মূল্য স্থানান্তর (ট্রান্সফার প্রাইসিং) যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে জানান এনবিআর । এনবিআর কর্তৃপক্ষ জানায়, কর পরিশোধের নতুন পদ্ধতি ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কর সেবা এর ফলে করদাতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। করদাতাদের উত্তম সেবা দেয়ার জন্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতির বিকল্প নেই।

সভায় অনলাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতির বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়। অনলাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতিতে টাকা ক্রেতার হিসাব থেকে রাজস্ব কোষাগারে জমা দিতে পদ্ধতিগত বা প্রসেসরের কাজ করবে কিউ-ক্যাশ। এনবিআরের নির্ধারিত ২৬ ব্যাংকের যে কোন একটিতে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করলে কিউ-ক্যাশ পদ্ধতি যথাযথ নিয়মে তা এনবিআরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে জমা করার ব্যবস্থা করবে। এতে সমন্বয়কের ভূমিকায় থাকবে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের অফিস (সিএজি)।

কর পরিষদ করার এ নতুন পদ্ধতিতে একজন করদাতার কর পরিশোধের জন্য ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেয়ার প্রয়োজন হবে না। সপ্তাহের যে কোন সময়, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে অনলাইনে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কসহ করসংক্রান্ত যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করা যাবে।

এতে করদাতার ব্যক্তিগত ও কর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কর পরিশোধের ক্ষেত্রে কোন হিসাব থেকে টাকা দেয়া হচ্ছে তা জানতে চাইবে না এনবিআর। সেই সঙ্গে এক ব্যক্তির হিসাব থেকে একাধিক ব্যক্তির কর পরিশোধ করা যাবে।

Local E-Payment bangladesh government Tax

(প্রিয় টেক) পাঁচ বছর আগে প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য যখন ৭৬ হাজার টাকা, তখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ২৫ লাখ। সব মিলে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো ৭ দশমিক ১৩ মেগাবাইট। যদিও তখন আমাদের সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতা ছিল ২৯ দশমিক ৩২ মেগাবাইট। তারপর প্রতিদিনই দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। সমান গতিতে বেড়েছে ব্যান্ডউইথের ব্যবহারও। এর মধ্যে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সাড়ে চার বছরে ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আট ভাগের এক ভাগে নামলেও গ্রাহক পর্যায়ে কিন্তু তার প্রভাব তেমন একটা পড়েনি। পাড়ার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) বা মোবাইল ফোন অপারেটরের মডেম কোথাও ইন্টারনেটের বিল নিয়ে সন্তুষ্ট নয় গ্রাহক। আইএসপিরা অবশ্য বলছেন, সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের চেয়ে উচ্চক্ষমতার গতিও দিচ্ছেন তারা। কিন্তু টাকার অঙ্কে তেমন একটা নামতে পারছেন না তারা।

এতদিন একটি মাত্র সাবমেরিন কেবল সংযোগ থাকায় নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের। কিন্তু সেই দুঃসময়ও পেছনে ফেলতে যাচ্ছে দেশ। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগও এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ইতিমধ্যে সরকার এ সংক্রান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সাবমেরিন কেবল কোম্পানিই দ্বিতীয় সংযোগটি আনবে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের জন্য সি-মি-উই-ফাইভ সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ২০১৪ সালে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

সৌজন্যে: সমকাল

Telecom Day Local Telecom

(প্রিয় টেক) মোবাইল ফোন তথ্য বিপ্লবের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। তথ্য এখন সহজলভ্য এবং নিমিষের আয়োজন মাত্র। ঢাকার খবর টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া পৌঁছে নিমিষেই একটি মাত্র বাটনের চাপে। তথ্য জানার ক্ষেত্রে আগের সেই ক্লেশ আর নেই। খরচও কমে গেছে। এটি সম্ভব হয়েছে মোবাইল ফোনের কারণে। তবে তথ্য বিপ্লবের যে জায়গাটি তৈরি হচ্ছে সেটি যতটা না মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে তার চেয়েও অনেক বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে। আর মোবাইল ফোন অপারেটররা এখন দেশব্যাপী ইন্টারনেট সার্ভিস দেওয়ার প্রধানতম কারিগর। এ প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য 'তথ্য প্রযুক্তিতে নারী ও মেয়ে শিশু।'

হাজার কিলোমিটার দূরের প্রবাসী আত্মীয় টাকা পাঠাচ্ছে সেটিও মিলছে মোবাইল ফোনে। গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া দিকহারা ট্রলার আবহাওয়ার খবর নিচ্ছে মোবাইলে। পরীক্ষার ফল মুহূর্তে মোবাইলের স্ক্রিনে। অসুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শও মিলছে মোবাইল ফোনে। ঘরে বসে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল দেওয়া, ট্রেনের টিকিট কাটা সবই এখন অনায়াসে করা যাচ্ছে। বন্ধুদের আড্ডা, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য-মোবাইলের বাইরে এখন কী?

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনেক উচ্চপদস্থরা বলছেন, দেশে তথ্য বিপ্লব হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা, আমরা তথ্য বিপ্লবের পথে রয়েছি। এক্ষেত্রে এখন যে হার্ডলটি পেরোতে হবে সেটিও আসবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি জি) মোবাইল ফোন প্রযুক্তি বিপ্লবকে কেবল চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে। এমন মত কম্পিউটার সমিতির সভাপতি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারের। তিনি বলেন, দিনে সাড়ে ৭ কোটি মিনিট ভয়েস কল দিয়ে তথ্য বিপ্লবের দাবি করা যায় না। তবে এটিও ঠিক যে মোবাইল ফোন আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। অনেক সম্ভাবনার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে তারা। কিন্তু বিপ্লবের কিছু কাজ কিন্তু এখনও বাকি। থ্রি জি বা এর পরের ফোর জি এলে বিপ্লব চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমানের দাবি দুর্মুখেরাও এখন এটি স্বীকার করবেন যে, মোবাইল ফোন দেশে তথ্য বিপ্লব ঘটিয়েছে। যেটুকু কাজ বাকি আছে সেটিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরে থ্রি জি চালু হয়ে গেলে তখন আর কেউ এমন কথাও বলতে পারবে না।

অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল অপারেটর মেহবুব চৌধুরী বলেন, মোবাইল ফোন দিয়ে কতকিছু হয়েছে তা তো খাতা-কলম দিয়ে হিসাব করে বলা যাবে না। মোবাইল ফোন ছাড়া একটি দিন কেমন সেটা ভাবলেই বেরিয়ে আসবে এই ডিভাইসটি আমাদের কী দিয়েছে। মোবাইল ডিভাইসটিই এখন অপার এক শক্তির আধার। তিনি বলেন, বাংলাদেশেই আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া থেকে শুরু করে সব লেনদেনই মোবাইলের মাধ্যমে করা যাবে বলে প্রত্যাশা করছি।

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন তিন কোটি প্রায়। সন্দেহ নেই এর প্রধানতম কারণও মোবাইল ফোন। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের অনেকটা অংশই যে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সেটিও মোবাইল ইন্টারনেটের কারণে। একই কারণে গত কয়েক বছরে ব্যান্ডউইথের ব্যবহারের গ্রাফ কেবলই ঊর্ধ্বমুখী। ২০০৮ সালের শেষেও যেখানে দেশের মোট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল মাত্র সাড়ে ৭ গিগাবাইট পার সেকেন্ড। এখনকার ব্যবহার ৩০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড।

থ্রি জি প্রযুক্তি এলে ইন্টারনেট ব্যবহারের এই অ্যাভিনিউ আরও প্রশস্ত হবে। কাজের গতি বাড়বে। কাজ করার মানুষের সংখ্যাও গুণিতক হারে বাড়বে। এখন যেভাবে হিসাব গুনে গুনে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা হিসাব করা হয়। হয়তো অল্প কিছুদিন পরে গুনে গুনে বলতে হবে কতজনের হাতে মোবাইল নেই।

গত তিন বছরে ঠিক দ্বিগুণ হয়ে গেছে মোবাইল ফোনের সংখ্যা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের হিসেবে চালু থাকা সিম এখন ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গ্রাহক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। ছয় কোটি লোকের হাতে মোবাইল নামের ছোট্ট ডিভাইসটি চলে যাওয়াই তো এক বিপ্লব। ছয় কোটি লোক একে অন্যের সঙ্গে কানেকটেড। অদৃশ্য এই যে বাঁধন সেটিই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের বড় শক্তি।

২০০৪ সালেও দেশের মাত্র ৪০ লাখ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই বছর পর সেটি পাঁচগুণ হয়ে দাঁড়ায় দুই কোটিতে। অথচ এই দুই বছরে ল্যান্ডফোনের গ্রাহক ৯ লাখ থেকে ১০ লাখে আসে। পরে ল্যান্ডফোনের গ্রাহক এক পর্যায়ে ১৩ লাখেও গিয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি বেসরকারি অপারেটরকে নানা অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়ায় ল্যান্ডফোনের গ্রাহক আবারও কমে যায়।

অন্যদিকে মোবাইল ফোনের কেবলই ঊর্ধ্বমুখী গতি। ২০১১ সালের শেষেও মোবাইলের গ্রাহক সাড়ে ৮ কোটি। ২০১১ সালের এক বছরে নতুন গ্রাহক যোগ হয় ৭৭ লাখ। ২০০৮ সালের শেষে মোবাইলের গ্রাহক ৪ কোটি ৪৬ লাখের ওপরে চলে যায়। এই বাস্তবতায় মানুষের দৈনন্দিন নানা কাজের অনেকই মোবাইল ফোনের মধ্যে ঢুকে গেছে। মোবাইল ফোন ছাড়া একটি দিনও এখন কল্পনার বাইরে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সমকালকে বলেন, কিছু কাজ হয়তো এখনও বাকি আছে। কিন্তু বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ সেবায় গত তিন বছরে যতটা এগিয়েছে আর কোথাও হয়তো এতটা উন্নতি সাধিত হয়নি। তার বিবেচনায়ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। তথ্য এখন অধিকার, যা মোবাইল বিপ্লবের মাধ্যমেই এসেছে।

সৌজন্যে: সজল জাহিদ, সমকাল

Telecom Day Local Telecom

বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের এখন যে অবস্থা, সেটিকে কীভাবে দেখেন?
মুজিবুর রহমান : টেলিযোগাযোগে বাংলাদেশে তো বিপ্লব হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রিক যোগাযোগ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, আমরা যারা এর মধ্যে আছি তারা নিজেরাও চমকে উঠি। মোবাইলের কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। তথ্য পাওয়া এখন সবচেয়ে সহজ কাজ। ডিজিটাল সেবা এখন ঘরে ঘরে। ঘরে বসেই সব করা যাচ্ছে।

টেলিটক মানেই তো এখন থ্রি জি'র আলোচনা।
মুজিবুর রহমান :আমরাও চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়িই থ্রি জি'র গ্রাহক সেবা শুরু হবে।

এ বিষয়ে একটা নীতিমালার খসড়া হয়েছে। সেটি সম্পর্কে জেনেছেন নিশ্চয়ই।
মুজিবুর রহমান : শুনেছি, একটা নীতিমালা হচ্ছে। তবে এগুলো সরকারের বিষয়। আর টেলিটকের থ্রি জি যেহেতু সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারে রয়েছে, তাই এটি নিয়ে আমরা তেমন ভাবছি না। আর থ্রি জি'র সঙ্গে সঙ্গে ফোর জি'র প্রস্তুতিও টেলিটক রাখছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো নিয়ে কাজ করা হবে।

গ্রাহক সেবা বাড়াতে আর কী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে টেলিটক?
মুজিবুর রহমান :সরকারের প্রতিশ্রুতির ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নই টেলিটকের প্রধান এজেন্ডা। দেখুন, নাগরিক সুবিধার কাজগুলো কিন্তু টেলিটকই সবচেয়ে বেশি করছে। পাবলিক পরীক্ষার ফল দেওয়াই শুধু নয়, ১০ বছরের আর্কাইভও করে রাখা হয়েছে। যে কেউ চাইলেই যখন খুশি যে কারও ফল যাচাই করে নিতে পারবে। এ ছাড়া নাগরিক জীবনকে আরও সহজ করে দেওয়ার মতো অসংখ্য সেবা দিচ্ছে টেলিটক। সেটি ভর্তি পরীক্ষা আর চাকরির পরীক্ষার ফর্ম পূরণ, টিকিট কাটা সবই টেলিটকে করা সম্ভব।

সিম ট্যাক্স কমানো হলেও গ্রাহক বৃদ্ধি কিন্তু সেভাবে হচ্ছে না। নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার হার কমছে কেন?
মুজিবুর রহমান :গ্রাহক বৃদ্ধির একটা শেষ আছে। ১৬ কোটি লোকের মধ্যে ৯ কোটি সিম ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়েছে। তারপর আবার আইন অনুসারে ১৮ বছরের কেউ সিম কিনতে পারবে না। এখানে নিয়মের একটু সংশোধনী দেওয়ার সময় হয়তো এসেছে। ১৮ বছরকে কমিয়ে ১৬ করা প্রয়োজন। কলেজে গেলেই যাতে শিক্ষার্থীরা মোবাইল প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া দরকার। কারণ এরা কিন্তু এমনিতেই নানাভাবে মোবাইল ব্যবহার করে। আর ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্যও তাদের এই সুবিধার মধ্যে আনা প্রয়োজন।

মুজিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টেলিটক।

সৌজন্যে: সমকাল

Local Telecom Teletalk Mujibur Rahman